আগরতলা: দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর হাওড়া নদীর জলের দূষণের মাত্রা নিরূপণে উদ্যোগী হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণের মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করছে পর্ষদ। পুজোর আগে ও পরের দূষণের মাত্রার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।শনিবার রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগরতলার দশমীঘাটে পৌঁছে হাওড়া নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য পর্ষদের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন গৌতম ঘোষ, ডঃ রাজীব পাল, রতন দেবনাথ এবং প্রজেক্ট অফিসার প্রসেনজিৎ দাস।এদিন নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ প্রসঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিক ডঃ রাজীব পাল জানান, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুসারে প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর আগে হাওড়া নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিসর্জন পর্ব শেষ হওয়ার পর ফের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পুজোর আগে ও পরের জলের গুণমানের তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যায়।তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ চলবে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে একটি তুলনামূলক রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে পাঠানো হবে।জলদূষণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়েও নিরীক্ষণ চালাচ্ছে পর্ষদ। ডঃ রাজীব পাল জানান, গণেশ পুজো থেকে বায়ু ও শব্দদূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।শুধু আগরতলাতেই নয়, কুমারঘাট ও উদয়পুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নদীর জল, বায়ু এবং শব্দদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। উৎসবের মরশুমে পরিবেশের উপর দূষণের প্রভাব কতটা পড়ছে, সেই চিত্র নিরূপণ করতেই এই ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।