বঙ্গে তৃণমূলের ছিন্নমূল অবস্থা , প্রত্যাশা মাফিক উত্থানের জয় বিজেপির
নিজস্ব প্রতিনিধি: অতীতের মহাকাব্যদ্বয় থেকে একটা চিরন্তন সত্য প্রবাদ রয়েছে " অতি দর্পে হত লঙ্কা এবং গৃহশত্রু বিভীষনের প্রভাব বাংলায় সদ্য নির্বাচনের ফলাফলে আবারও চির সত্য বলে বিবেচিত হলো " । পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন, এস আই আর কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ শতাংশ প্রশাসনিক ও সৈনিক বলের আপ্রাণ চেষ্টার ফলও বঙ্গ বিজয়ে গুরুতর ভূমিকা নিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই । তবে , বঙ্গ বিজয়ে সাবেক তৃণমূল সরকারের কিছু কিছু মন্ত্রী সন্ত্রীর আর্থিক ও প্রশাসনিক দূর্নীতি যে সহায়তা করেনি বিশুদ্ধ বিজেপি নেতাও অস্বীকার করতে সক্ষম হবেনা । ১৫ বছরের প্রশাসন বিরোধী বাস্তবতায় কাল বৈশাখীর ঝড় যে রয়েছে তাহা নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতেই রীতিমতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল । কথায় আছে জয়কালে ক্ষয় নেই , আর মরণকালে ঔষধ নেই । তাবড় তাবড় মন্ত্রীগণ ও প্রতিষ্ঠান বিরোধী এবং স্ব বিরোধী অর্থনৈতিক ঘোটালার স্বীকার হয়েছে এতে দ্বিমত থাকার কথা নয় । প্রশাসনিক ও আর্থিক ঘোটালায় ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের প্রধান ও প্রশাসন বেসামাল হয়ে গিয়েছিল তাতেও কোন সন্দেহ নেই । শেষের দিকে সুতো বাছতে গিয়ে কম্বল খালি হয়ে যাওয়ার অবস্থায় নিমজ্জিত হয়েছিল মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার । বিজেপির স্ট্যাটেজিক পয়েন্ট ছিল ২০২১ এর পূর্ব লগ্নে বেশ কিছু সংখ্যক তৃণমূলের মন্ত্রী সমেত প্রথম সারির নেতৃত্বকে প্রলুব্ধ করে নিজের নারদার আতঙ্কে বিজেপির তোষন। যদিও স্বউক্তি ছিল তিনি ২০০৯ সাল থেকে বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও তৎসময়ে সর্ব ভারতীয় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহজির সাথে চুপকি চুপকি সংযোগ । বঙ্গে পরিবর্তনের দমকা হাওয়া অনেক দিন থেকেই বইছিল । অবশ্য মাননীয়া বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক পরিকল্পনা মন্ত্রী সভার অস্তিত্বকে অনেকটা সচল রেখেছিল । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্ষ্মীর ভান্ডার মাসে ১৫০০ টাকা ( সাধারণের জন্য ) এবং অনগ্রসরদের জন্য ( মাসে ) ১৭০০ টাকা । অবশ্য বিশ্বগুরু , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমেত সর্বস্তরের বিজেপি নেতৃত্ব মাসে ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অঙ্গীকার একটা অন্যতম জয়ের মাইলস্টোন এতে সন্দেহ নেই । তবে , ক্ষমতায় এলে বঙ্গে মাসে ৩০০০ টাকা অন্নপূর্ণা ভান্ডারে ত্রিপুরাবাসিও উল্লসিত বটে । কেননা ত্রিপুরায় যেহেতু বিজেপি সরকার বঙ্গে ধনুর ভাঙা পন অন্নপূর্ণা ভাতা ৩০০০ টাকা ত্রিপুরায় ও প্রচলিত হতে চলছে । অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোদীজি ৭ ম পে কমিশনের লাগু করায় অঙ্গীকার বদ্ধ যা ভাষনে ব্যক্ত করেছেন।যদিও বর্তমানে ৮ ম পে কমিশনের সুযোগ সুবিধার প্রাপ্য বঙ্গের কর্মচারীবৃন্দ । আরও শতশত অঙ্গীকারে পর্যবসিত বঙ্গের জনগন । কোনটা ছেড়ে কোনটা ব্যক্ত করবো বুঝে উঠতে পারা ভার । যাকে বলা যায় ত্রিপুরার ভীষন ডকুমেন্ট এর ন্যায় উন্নয়নের পোক্ত সিঁড়ির বন্দোবস্ত রয়েছে বঙ্গে নূতন বিজেপি সরকারের স্থাপত্যে । বিধাতার বিচারে চিরসত্য সৃষ্টির পরিসমাপ্তি অবশ্যম্ভাবী । দুদিন আগে আর পরে । আজকে কিছু কিছু অনৈতিক ঘটনা অতি উৎসাহে ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যা সচরাচর হয়ে থাকে । তবে , উৎসবের সুর সর্বদা বজায় থাকেনা এটাই চিরসত্য । মন্ত্রী সভার শপথ থেকে আকাশচুম্বী উন্নয়নের ডালি পূর্ণতা বহন করবে না শুরুতেই হতাশার কড়াল প্রবাহ প্রবর্তিত হবে সেটা ভবিষ্যত বলবে ।যদিও বঙ্গ সমেত আমরা সবাই গঠন মূলক অগ্রগতিতে প্রত্যাশী। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়াল আগ্রাসন ।অপরদিকে মাইনরিটি ভোটের বিভাজনে বঙ্গে ধরাশায়ী তৃণমূল । উপরন্তু নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় আশঙ্কা সমেত এস আই আরের আক্রোশে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের ভোটার লিস্ট চ্যুত । সব মিলিয়ে বিরোধী শক্তির বঙ্গে ইন্দ্র পতনে ভীষন ধাক্কা এতেও সন্দেহ নেই ।যদিও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী গণনায় অব্যবস্থায় কাউন্টিং এজেন্টের উপর অপ্রত্যাশিত হামলার অজুহাতে কাউন্টিং হল থেকে বেড়িয়ে যাওয়ায় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ লগ্নে গননা কেন্দ্রে গিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি । ভবানীপুরে ও তৃণমূলের বিসর্জন মানতে হচ্ছে ।যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেড়িয়ে যাওয়ার পথে ওনাকেও শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। বঙ্গে তৃণমূল অধ্যায়ের আপাতত সমাপ্তি । এখন দেখার বঙ্গে ডক্টর শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ভূমিতে বিজেপি অঙ্গীকার সমেত অগ্রগতি ও শান্তির বাতাবরণে ভূষিত হবে কিনা বাংলা ।
May 4th, 2026