মধ্যপ্রাচ্যে চলছে যুদ্ধের বিভীষিকা
সম্পাদকীয় কলম : চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের । চারিদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা । সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করেছে । স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রধানরা পর্যন্ত নিরাপদ নয় । মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিদ্যমান । এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম শক্তিধর দেশ ভারতবর্ষ । অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে । নৌ সেনা , স্থল ও আকাশপথে পর্যাপ্ত আগাম সুরক্ষা নিয়ে রেখেছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক । সমস্ত রাজ্যগুলোকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে । যে কোন সময় আঘাত হলে প্রত্যাঘাত করতে সক্ষম ভারত । তবে , মধ্য প্রাচ্যের অস্থিতিশীল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী । যুদ্ধ মানেই সম্পদ ও মানব জাতির ক্ষতি । তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে বহু দেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা । আগ্রাসন ও কতৃত্ব কায়েম করতে ইরানের রাষ্ট্র প্রধানের হত্যার পর পাল্টা প্রত্যাঘাত যেন ভয়াবহতা বাড়িয়েছে । এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষনা ইরানের । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা । মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো আভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা ভুলে ক্ষমতার বহিঃ প্রকাশ করতে মারন খেলায় মেতে উঠেছে। ইসলামীক রাষ্ট্রগুলোও বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে । সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সব রাষ্ট্রেই পরমাণু শক্তি ধীরে ধীরে গোপনে বৃদ্ধি করে নিয়েছে । এমতাবস্থায় যুদ্ধের অশনি আবহাওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যায় পরমাণু কোন হামলা হলে পরিণাম ভোগতে হবে গোটা মানব সভ্যতাকে । বিশ্ব শান্তি রক্ষায় জাতি সংঘ , ন্যাটো , ইউন্যস্কো সহ বিশ্ব মানবাধিকার কমিশনের মধ্যস্থতা অত্যন্ত আবশ্যক । এই পরিস্থিতি বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ,বাণিজ্যিক , সামাজিক যাবতীয় ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে পড়বে । শেয়ার বাজারে ধ্বস পড়বে । মূল্যবৃদ্ধি হবে । সাধারন জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে । স্থিতিশীল দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ঘনীভূত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে । মানব সম্পদ রক্ষায় যুদ্ধের আগ্রাসন ভুলে স্থিতিশীল সহবস্থান গড়ে উঠুক মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে , এটাই কাঙ্খিত ।

