মায়ের নাড়িছেঁড়া পুত্রের অবহেলায় বাকরুদ্ধ সভ্য সমাজ !
সম্পাদকীয় কলম : নিজের পেটের সন্তানকে কুলাঙ্গার বলে অভিহিত করলেন অসহায় অসুস্থ এক বৃদ্ধা মা। কমলা সাগর বিধানসভার অন্তর্গত পান্ডবপুর এলাকার তিন নং ওয়ার্ডের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা, মীরা দেব গত বুধবার সেকেরকোট এলাকায় মেয়ে শিপ্রা দেবের বাড়িতে বেড়াতে এসে হঠাৎ পড়ে গিয়ে উনার পায়ে প্রচন্ড ব্যথা পায় আর এরপর থেকে তিনি বিছানায় শয্যাশাই হয়ে পড়েন। বৃদ্ধা মিরা দেবের স্বামী সুকরঞ্জন দেব দীর্ঘ অনেক বছর আগে মারা যান। উনার দুই মেয়ে এবং ছেলে। ছেলে মেয়ের সবাইকেই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা মিরা দেবের ভাগ্যে যে এমন দুঃসময় আসবে তা কখনো তিনি কল্পনা করেননি। ছোটবেলায় তিনি যে ছেলেকে কোলে পিঠে করে মায়ের স্নেহ ভালবাসা দিয়ে বড় করে তুলেছেন আজ সেই পেটের পুত্র সন্তান বিয়ে করার পর গর্ভধারিণী মায়ের সেবা যত্ন করা ভুলে গেছে যা এই সভ্য সমাজে দাঁড়িয়ে মেনে নেওয়ার মতো নয়। বৃদ্ধা মীরা দেব পায়ে ব্যথা পাওয়ার পর একমাত্র পুত্র দুলাল দেব মায়ের চিকিৎসা করার দরকার টুকু মনে করেনি। এদিকে অর্থের অভাবে বৃদ্ধার জামাতা বিশ্বজিৎ দে শাশুড়ির চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অসুস্থ বৃদ্ধার ছেলে দুলাল দেব সিলভার ফ্যাক্টরিতে কর্মরত। বলা চলে এই সভ্য সমাজে দাঁড়িয়ে মায়ের প্রতি দায়িত্ব এবং কর্তব্য কে ভুলে গেছে দুলাল দেবের মত কুলাঙ্গার সন্তানরা। শুক্রবার দুপুরে আহত বৃদ্ধা মীরা দেব সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে উনার এই অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে নিজের পেটের সন্তান দুলাল দেব কে কুলাঙ্গার সন্তান বললেন, তিনি বলেছেন উনি যে কুলাঙ্গার সন্তান পেটে ধারণ করেছেন উনার মত কুলাঙ্গার সন্তান যেন আর এই পৃথিবীতে একটাও জন্ম না হয়। তবে ছেলের প্রতি কতটা ঘৃণা জন্ম হলে একজন বৃদ্ধা মা তার নিজের সন্তানকে কুলাঙ্গার বলতে পারে তা অবশ্যই না বুঝার কথা নয়। শুধু তাই নয় বৃদ্ধা মিরা দেবের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উনার ছেলে দুলাল দেব আটকে রেখেছেন। রেশন থেকে পাওয়া চিনি এবং জ্বালানি তেল কিছুই দিচ্ছে না বৃদ্ধা মাকে। এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর দুলাল দেবের মত কুলাঙ্গার সন্তানরা কি আদৌ গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি যত্নবান এবং শ্রদ্ধাশীল হবে! সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

