সারা দেশের মধ্যে এজিএমসি'র স্থানকে ১০ এর মধ্যে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ৩ নভেম্বর: রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। সারা দেশের মধ্যে এজিএমসি'র স্থানকে ১০ এর মধ্যে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে। আজ আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস করে এবিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে - ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিল্ডিং (CCB), কমিউনিকেবল ডিজিজ সেন্টার (CDC), জিবিপি হাসপাতালে 20 শয্যা বিশিষ্ট স্পেশাল ওয়ার্ড এবং ইন্টার ডিপার্টমেন্টাল কল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IDCMS)।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলিতে বর্তমানে এমবিবিএস কোর্সের জন্য ৪০০টি আসন রয়েছে। মেডিকেল কলেজগুলিতে পরীক্ষায় আরো ভালো ফলাফল করতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। জিবি হাসপাতাল, টিএমসি হাসপাতাল সহ অন্যান্য জেলা হাসপাতালগুলিতে এখন বেশ ভালো কাজ হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে খবর আছে যে জিবি হাসপাতাল কিংবা টিএমসি হাসপাতালে কিছু দালাল বসে থাকে। তাদের কাজই হচ্ছে রোগীদের প্রভাবিত করে বাইরের হাসপাতালে পাঠানো। তাই এদেরকে জালে তোলার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৮টি হিপ রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে। হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা হয়েছে। আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকাঠামো আরো উন্নয়ন করা হবে। প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে এজিএমসিতে ৯টি সুপার স্পেশালিটি চালু করা হয়েছে। খুব সহসাই আরো প্রায় চারটি নতুন পরিষেবা চালু হবে। এজন্য বরাদ্দের প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে কিছুদিন আগে আমি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি। আমি তাঁর কাছে পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দের কথা বলি। তখন তিনি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেন।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিজা হাসপাতালের সহযোগিতায় রাজ্যে চারটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে। তারা ত্রিপুরায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করার জন্য বলেছেন। এজন্য আমরা তাদের জন্য জমি বরাদ্দ করেছি। আগামী ৫ তারিখ সেই হাসপাতালের ভূমিপূজন হবে। এখন ত্রিপুরার সার্বিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতি রবিবার আমি 'মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু' কার্যক্রমে উপস্থিত থাকি। সারা রাজ্যের মানুষ সেখানে আসেন। এরমধ্যে বেশিরভাগই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে অনেকে বাইরে রেফার করে দেওয়ার কথা বলে থাকেন। এক্ষেত্রে সুপার স্পেশালিস্টদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কোন রোগীকে রেফার করা যাবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, আমাদের ডাক্তারদের নিজেদের আরো উন্নতি করতে হবে, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সারা দেশের মধ্যে এজিএমসি'র স্থানকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অন্ততপক্ষে ১০ এর মধ্যে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে সেটা সম্ভব হবে না। এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালে মা ও শিশুর জন্য একটা বিল্ডিং শুরু হচ্ছে। প্রায় ১৯২ কোটি টাকা দিয়েছে ডোনার মন্ত্রক। ডেন্টাল কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নে আরো ২০২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্রামগঞ্জে একটি আধুনিক নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ১২১.৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আইএলএস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ১০০ শয্যার অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় সারা দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরা ১০০% লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ওএনজিসির অ্যাসেট ম্যানেজার সঞ্জীব কুমার জানজুয়া, মেডিকেল এডুকেশনের অধিকর্তা প্রফেসর ডাঃ এইচ পি শর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, জিবি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডাঃ শংকর চক্রবর্তী, এজিএমসির অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ অনুপ কুমার সাহা, প্রফেসর ডাঃ সঞ্জীব কুমার দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ।