বিধানসভার ষষ্ঠ দিনের অধিবেশনের টুকিটাকি
নিজস্ব প্রতিনিধি:রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিন আজ প্রশ্ন উত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের উত্থাপিত শহর ও নগর এলাকায় মশার দুর্বিষহ যন্ত্রণা সম্পর্কিত প্রশ্নের মধ্য দিয়েই আজকের অধিবেশনের সূচনা হয়। প্রশ্নকর্তা জানতে চান স্মার্ট সিটি আগরতলা সহ রাজ্যের প্রতিটি শহর ও নগর এলাকায় মশার দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে নিশ্চিত ভাবে পরিত্রাণ দিতে দপ্তরের কি পরিকল্পনা রয়েছে। দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা এ প্রসঙ্গে জানান রাজ্য সরকার মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সমসময় পরিষ্কার করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে চলেছে। এদিকে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান বৃষ্টিপাতের সময় মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে স্মার্ট সিটিতে কভার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। ট্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগরতলা পুরো নিগমকে অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের ওপর এক প্রশ্নের উত্তরে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, কিশোর বর্মন জানান বর্তমানে রাজ্যের কলেজগুলোতে শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা ৩০৬। শূন্য পদ গুলিতে প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে শূন্য পদে নিয়োগ করা হবে। লোক সেবা আয়োগ এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। অতিরিক্ত এক প্রশ্নে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন ইউজিসির রুলস অনুযায়ী অধ্যাপক নিয়োগে বয়সের উর্ধ্বসীমা নেই। অথচ আমাদের রাজ্যে টিপিএসসি মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধসীমা চল্লিশ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উর্ধ্বসীমা তুলে দিয়ে বিষয়টি সংশোধন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান ,দেরাদুনে ত্রিপুরার ছাত্র এঞ্জেল চাকমা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুজন কিশোর। প্রধান অভিযুক্ত পালিয়ে রয়েছে। পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রচেষ্টা জারি রয়েছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক পল দাংশুর আনা একটি নোটিশের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পলাতক প্রধান অভিযুক্তের সন্ধান পেতে দেরাদুন পুলিশ ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং উত্তরাখন্ড পুলিশ সদর দপ্তর তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদানে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এবং তল্লাসী অভিযান জারি রয়েছে। লুক আউট সার্কুলার ও ব্লু কর্নার নোটিশ জারির মতো আইনগত পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক এবং স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি বলেন, যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন থেকেই তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে খোঁজখবর রেখেছেন। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামির সাথে তিনি কথা বলেছেন। পরবর্তী সময়ে আবার উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার সদস্য সান্ত্বনা চাকমা ও টিংকু রায় মাছমারাস্থিত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজদের সঙ্গে দেখা করেন ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। ঐদিনই ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান এবং উত্তরাখন্ড সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকার চেক এঞ্জেল চাকমার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে ১৪ জানুয়ারি নন্দননগরস্থিত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের সাথে দেখা করেন। এঞ্জেল চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও শিল্পমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিল পাস করানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে মতানৈক্যের ফলে বিধানসভায় আজ বিরোধীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াক আউট করেন । রাজ্যে তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বিধানসভা অধিবেশনে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী বিল উত্থাপন করেন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় র্মন বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন । এই বিলের স্বচ্ছতা বাস্তবতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। এ ধরনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিল পাস না করানোর জন্য তারা জোরালো দাবি জানান। কিন্তু সরকার পক্ষ বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করে দেন। এ নিয়ে বিধানসভায় তীব্র বাক বিতন্ডা শুরু হয়। বিরোধীদের দাবির উপেক্ষা করে বিধানসভায় বিল পাস করানোর চেষ্টা করা হলে বিরোধীরা অধ্যক্ষের আসনের দিকে এগিয়ে এগিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরও বিল পাস করানোর চেষ্টা করলে বিরোধীরা ওয়াক আউট করেন। বিরোধীরা ওয়াক আউট করার পর তিনটি বিলেই পাস করানো হয়। বিধানসভা অধিবেশনে আজ বাজেট প্রস্তাবের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকার পক্ষ ও বিরোধীপক্ষ উভয় পক্ষের সদস্যরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ট্রেজারী বেঞ্চের বিধায়ক রঞ্জিত দাস আজ আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের পেশ করা বাজেটকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই বাজেট হল একটি রোড ম্যাপ। অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করেছেন তা অভূতপূর্ণ বলে তিনি আখ্যায়িত করেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, বিরোধীরা কোনদিন এই ধরনের বাজেটকে সমর্থন করেনি। অর্থমন্ত্রী এবার করহীন বাজেট পেশ করেছেন। বিরোধীরা এই বাজেটকে সমর্থন না করলে মনে হবে বিরোধীরা চাইছেন জনগণের উপর কর চাপানো হোক। কৃষি ,মৎস্য, পশুপালন, স্বাস্থ্য, এডিসি এলাকার উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই এবারের বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার জনজাতি কল্যাণে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বলেও উল্লেখ করেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস। বিরোধী পক্ষের বিধায়ক অশোক মিত্র বাজেট প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বলেন, এবার স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে ২৫ শতাংশ অর্থ বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা ও মহকুমা স্তরের হাসপাতাল গুলির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন। অশোক মিত্র বলেন, শুধু আগরতলা ভিত্তিক উন্নয়ন করলেই চলবে না। রাজ্যের হাসপাতাল গুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে নজর দিতে হবে। বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামীন রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট সংস্কার করা হচ্ছে না। গ্রামীণ উন্নয়নে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। আউটসোর্সিং এ নিয়োগ বন্ধ করে সরকারি ভাবে লোক নিয়োগের জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাজেট প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে পশুপালন ও মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, গত ১৬ মার্চ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন তা ঐতিহাসিক। বাজেটে দূরদর্শিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই বাজেট সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক ও ফলপ্রসূ হবে। এই বাজেট মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে এবারের বাজেটে বিশেষ সংস্থান রাখায় তিনি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, বিধানসভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী জাতীয় সড়ক ২০৮-এর খোয়াই থেকে হরিনা অংশটিকে দুই লেনে উন্নীত করার কাজ চারটি পৃথক প্যাকেজের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক পাঠান লাল জমাতিয়ার আনা এক দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০১৪-১৫ সালের আগে ত্রিপুরায় ৩৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট দুটি জাতীয় সড়ক ছিলো। পরবর্তীকালে রাজ্যে আরও চারটি নতুন জাতীয় সড়ক হওয়ায় এই মুহূর্তে জাতীয় সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৯২৩.৩১ কিলোমিটার। খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা সংযোগ রক্ষাকারী ২০৮ নং জাতীয় সড়ক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ত্রিপুরার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক উন্নতির অন্যতম চাবিকাঠি হলো ২০৮ নং (কুমারঘাট, কৈলাসহর, কমলপুর, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, অমরপুর, হরিনা) জাতীয় সড়ক। প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সড়কটি কৈলাসহর, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, অমরপুর এবং করবুকের মতো রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মহকুমাগুলিকে সরাসরি যুক্ত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সড়কটির এক নং প্যাকেজের অন্তর্গত খোয়াই থেকে তেলিয়ামুড়া অংশের ২৬ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ ৫৪.০৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২ নং প্যাকেজে তেলিয়ামুড়া থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত ৩৭.২৪ কিমি অংশের নির্মাণ কাজ ৫২.৭৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। বর্তমান কাজের গতি বজায় থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন নং প্যাকেজে রাঙ্গামাটি থেকে পতিছড়ি অংশের ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের ৩১ মে সম্পন্ন করার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। চার নং প্যাকেজে পতিছড়ি থেকে হরিনা পর্যন্ত ৩৫.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সড়কের পুরোনো আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলির পরিবর্তে বাঁকগুলি সোজা করতে প্রায় ৪১ কিলোমিটার নতুন এলাইনমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী পুরাতন রাস্তাটি সচল ও চলাচলের উপযোগী রেখেই নতুন এলাইমেন্টের কাজ চলছে। এই লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নতুন রাস্তা তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো রাস্তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, খোয়াই-তেলিয়ামুড়া-হরিনা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাথে উত্তর ত্রিপুরার সংযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই উন্নত সড়ক পথ ভবিষ্যতে রাজ্যের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে আরও দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলবে। রেলের কার্গোর দায়িত্বে নেশা কারবারি" শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় রেল যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগরতলা থেকে দেশের বিভিন্ন শহর ও নগরের সাথে প্রতিদিন বহু আন্তঃরাজ্য ট্রেন চলাচল করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরের যাত্রীরা এই ট্রেন পরিষেবা ব্যবহার করছেন। এই বিপুল যাত্রী চলাচলকে কাজে লাগিয়ে মাদক চোরাকারবারিরা অবৈধ সামগ্রী পাচারের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি রেলপথ ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য পাচারের ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। রেলের মাধ্যমে এই ধরনের পাচার চক্র প্রতিরোধের লক্ষ্যে ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যেমন GRP (Govt. Railway Police), ANTF (Anti Narcotics Task Force) প্রভৃতি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন যাত্রীট্রেন, এমনকি মালবাহী ট্রেনেও আকস্মিক তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত তল্লাশি অভিযানকালে যেসমস্ত মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং তৎসঙ্গে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে । বিগত ১৬.১০.২০২৫ তারিখে আগরতলা GRPS (Govt. Railway Police Station)- এর নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীবৃন্দ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জিরানিয়া রেলওয়ে স্টেশনে দুটি Wagon (Wagon No. N/R BCNAM1-30030010892 এবং Wagon No. N/R BCNAHSM1-31032457043) থেকে ৯০,০০০ বোতল Eskuf কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেন। এই ঘটনায় বিগত ১৭-১০-২০২৫ তারিখে আগরতলা GRPS-এ NDPS (Narcotic Drugs and Pshychotropic Substances) আইনে ধারা ২১(C)/২৯ [কেস নং-2025GRP104] একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত চলাকালীন জিরানিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে আরও ১৭,৮০০ বোতল Eskuf কফ সিরাপ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই মামলার তদন্ত চলাকালীন মোট ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ৬ জনের মধ্যে, প্রধান অভিযুক্তসহ ০৩ জনকে ত্রিপুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হল, (১) অরুণ কুমার ঘোষ (২) রাজীব দাস গুপ্ত (৩) মান্তানু সাহা। তদন্ত চলাকালীন সময়ে অফিসারদের একটি দল দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশ সফর করে এবং সেখান থেকে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তারা হল ১. সৌরভ ত্যাগী ।২. হিমাংশু ঝা ।৩. দীপ প্রকাশ গুপ্ত ।গ্রেপ্তারকৃত এই ৬ জন অভিযুক্তই আগামী ২৭.০৩.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকবে।পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার এন.ডি.পি.এস এর বিশেষ বিচারক মান্তানু সাহার বিরুদ্ধে একটি 'প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছেন, যা এখনও কার্যকর করা বাকি রয়েছে। মান্তানু সাহা বর্তমানে বিশালগড়ে অবস্থিত 'কেন্দ্রীয় সংশোধনালয়ে আটক রয়েছে। এই মামলার সাথে জড়িত মাদক সাম্রাজ্যের আরেক মূল হোতা বা 'কিংপিন-যাঁর নাম অপু রঞ্জন দাস-তাঁকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপু রঞ্জন দাস বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ত্রিপুরা পুলিশ একটি বিশাল আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস বা একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং স্যন্দন পত্রিকায় প্রকাশিত বাংলাদেশির জামিনদার ভারতীয় সরকারি কর্মী, আদালতের নোটিশ-শীর্ষক সংবাদ সম্পর্কে বিধায়ক শ্রী রঞ্জিত দেববর্মার রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত ১৩/০২/২০২৬ তারিখে Chief Judicial Magistrate Court, Khowai এর মাননীয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, খোয়াই পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ১০/০২/২০২৬ তারিখে Case No. PRC (WP) 05 to 2026 সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেন।হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত শাকিল প্রভাষ খান-এর পক্ষে জামিনদার হিসেবে সঞজু দাস, LDC, O/o the Superintendent of Police (Traffic), বর্তমানে SDPO Office, Longtharai Valley, Dhalai-এ কর্মরত মাননীয় খোয়াই আদালতে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করেন যে, তিনি অন্য কোনো মামলায় কখনও জামিনদার হিসেবে দাঁড়াননি। কিন্তু যাচাই করে দেখা যায় যে, তিনি ইতিমধ্যে আরও 4টি মামলায় জামিনদার হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে মাননীয় খোয়াই আদালত জামিন গ্রহণ করেননি।মাননীয় CJM, খোয়াই সঞজু দাস, LDC-কে সতর্ক করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন যে, কেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করা হবে না। মাননীয় CJM আদালত, খোয়াই-এর আদেশ প্রাপ্তির পর SP (Traffic), Tripura তার বিরুদ্ধে একটি শোকজ নোটিশ জারি করেন, কিন্তু সঞজু দাস বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় সেই শোকজ নোটিশ তাকে প্রদান করা যায়নি। বিধায়িকা অন্তরা সরকার দেব জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এক রেফারেন্সে কমলা সাগর বিধানসভা এলাকায় একটি ব্লক অফিস স্থাপনের জন্য বিধানসভায় দাবি জানান। যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন জনসংখ্যা ও গাঁও সভার ভিত্তিতে এলাকায় একটি ব্লক স্থাপন করা জরুরী। বিগত দিনেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকার পরিকাঠামো পরিদর্শন করে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তিনি বিষয়টি পুনরায় বিধানসভায় উত্থাপন করেন। এরপরে প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা রাজ্যে বর্তমানে ৮ টি জেলা ও ২৩ টি মহকুমা রয়েছে। ৮ টি জেলার অন্তর্গত এই ২৩ টি মহকুমাতে ৫৮ টি আর ডি ব্লক রয়েছে। ৮ টি জেলার অন্তর্গত ৫৮ টি আর.ডি ব্লকের প্রতিটি জেলার ভৌগোলিক আয়তন এবং জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে এই ব্লকগুলি গঠন করা হয়েছিল। ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে সুচারুভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে এবং গ্রামীণ এলাকার জনগণের আর্থিক ও সামাজিক বিকাশ সাধনে তৎকালীন ৪৫টি ব্লকগুলি ২০১৩ সালে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পুনর্গঠন করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ১৩ টি নতুন আর.ডি ব্লক গঠন করা হয়েছিল। সেই ১৩টি ব্লকের নাম হল:- ১) বামুটিয়া ২) বি সি নগর ৩) চড়িলাম ৪) কলাছড়া ৫) মোহনভোগ ৬) পোয়াংবাড়ি ৭) টেপানিয়া ৮) বেলবাড়ি ৯) চন্ডিপুর ১০) গঙ্গানগর ১১) লালজুড়ি ১২) ওল্ড আগরতলা ১৩) রইস্যাবাড়ি। রাজ্যের বিদ্যমান ব্লকগুলি কার্যকরভাবে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জনসেবা প্রদানে সক্ষম রয়েছে। প্রতিটি ব্লক পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ব্লক স্তরে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্য পরিচালনা করতে এবং জনসাধারণের সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।তাছাড়া ব্লক পুনর্গঠন একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়, জনবল পুনর্বিন্যাস এবং অবকাঠামোগত জটিলতা সৃষ্টি করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের কোনো প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত না হওয়ায়, সরকার এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার ব্লক পুনর্বিন্যাস বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মরত প্রকল্প কর্মীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান করা সম্পর্কে " বিধায়ক অশোক চন্দ্র মিত্র এবং বিধায়ক সুদীপ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মচারীদের জন্য প্রদত্ত সুবিধাসমূহ সংক্রান্ত দৃষ্টি আকর্ষনী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড মানিক সাহা বলেন, ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধীনস্থ প্রকল্প গুলির মধ্যে যেমন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন , জাতীয় আয়ুষ মিশন , ত্রিপুরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সমিতি (আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং চিফ মিনিস্টার জন আরোগ্য যোজনা) এবং ত্রিপুরা রাজ্য এইডস নিয়ন্ত্রিত সমিতি রয়েছে। তাদের কর্মীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান সম্পকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন , ত্রিপুরার অধীনে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধাসমূহ প্রদান করা হচ্ছে। সেগুলি হল নৈমিত্তিক ছুটি বছরে ১২ দিন, বিশেষ ছুটি বছরে ৩০ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৮০ দিন (২টি সন্তান পর্যন্ত), গর্ভপাতজনিত ছুটি ৪৫ দিন পিতৃত্বকালীন ছুটি ৭ দিন (সর্বোচ্চ ২টি সন্তানের জন্য), চিকিৎসাজনিত ছুটি বছরে ১ দিন।শুধুমাত্র সেইসব কর্মচারীদের ইপিএফ সুবিধা প্রদান ক হয়, যাদের বেতন প্রতি মাসে ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার) টাকা পর্যন্ত।কর্মচারীরা প্রতি আর্থিক বছরে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রে কার্যবিবরণী-তে অনুমোদন সাপেক্ষে ৫% বার্ষিক বেতন-পাওয়ার অধিকারী।জাতীয় আয়ুষ মিশন অধীনে কর্মরত চুক্তিভি কর্মচারীদের জন্য প্রদত্ত সুবিধাসমূহ,নৈমিত্তিক ছুটি বছরে ১২ দিন, বিশেষ ছুটি বছরে ৩০ মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৮০ দিন (২টি সন্তান পর্যন্ত), পিতৃত্বকালীন ছুটি চিকিৎসাজনিত ছুটি বছরে ১০ দিন।কর্মীরা প্রতি অর্থ বছরে তাদের বেতনের ওপর ৫% বার্ষিক বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন। চিফ মিনিস্টার জন আরোগ্য যোজনা) , ত্রিপুরার অধীনে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য প্রদত্ত সুবিধাসমূহ :প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ১২টি ছুটি , ৩০ টি বিশেষ ছুটি এবং ১০টি চিকিৎসা সংক্রান্ত ছুটি প্রদান করা হয় এবং প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হরে টেলিফোন বিল প্রদান করা হয়। ই.পি.এফ সুবিধা প্রদান করা হয়। ত্রিপুরা রাজ্য এইডস নিয়ন্ত্রণ সমিতি অধীনে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের জন্য প্রদত্ত সুবিধাসমূহ : ১৫১ জন চুক্তিবদ্ধ কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ৫১ জন EPF সুবিধা পেয়ে থাকে। প্রতি বছর ৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়ে থাকে। বছরে ৩০ দিন বাৎসরিক ছুটি , বছরে ১০ দিন চিকিৎসা জনিত ছুটি , ৬ মাসের মাতৃত্ব কালীন ছুটি , বছরে ১২ দিন নৈমত্তিক ছুটি এবং ৪টি সংরক্ষিত ছুটি প্রদান করা হয়। বর্তমানে National Health Mission , ত্রিপুরা-এর অধীনে মোট ১,৯৬৫ জন কর্মী কাজ করছেন। তাদের সকলকে NHM প্রকল্পের শুরু থেকেই সম্পূর্ণভাবে চুক্তিভিত্তিক ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত একই চুক্তিভিত্তিক অবস্থাতেই কর্মরত আছেন।

