নিজস্ব প্রতিনিধি: আবারও পুলিশের অমানবিক রুপ প্রকাশ্যে এসেছে। গরীব দুঃস্থ এক কৃষক ন্যায্য বিচারের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুবেলা করে থানার প্রতিটি পুলিশ অফিসারদের অনুরোধ করার পরও কেউই দুঃস্থ কৃষককে পাত্তাই দিচ্ছে না। অসহায় কৃষক এবার মিডিয়ার দারস্থ। উল্লেখ্য, কৈলাসহরের দেওরাছড়া এডিসি ভিলেজের তিন নং ওয়ার্ডের বাঘাছড়া গ্রামের বাসিন্দা ইননুস আলী পেশায় একজন কৃষক। ছোট বড় মিলিয়ে উনার নিজের মোট আটটি গরু রয়েছে। ইননুস আলী প্রতিদিন সকালবেলা নিজের গরুদের ঘাস খাওয়ানোর জন্য পাশ্ববর্তী গ্রামের টিলা জায়গায় নিয়ে যান। টিলা জায়গায় গরুদের ছেড়ে আসার কয়েক ঘন্টা পর গ্রামের এক যুবক ইননুস আলীকে জানায় যে, গরুগুলো কীটনাশক ঔষধ খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এই কথা শোনেই ইননুস আলী সাথে সাথেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে টিলা জায়গায় গিয়ে দেখেন তিনটি গরু মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে এবং বাকী পাঁচটি গরু মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছে। সাথে সাথেই পাঁচটি গরুকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনে লেবুর জল এবং তেতুলের জল খাইয়ে ঘরোয়া চিকিৎসা করিয়ে পাঁচটি গরুকে বাঁচিয়ে তোলে। মৃত তিনটি গরুর মৃতদেহের পাশে প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতর কীটনাশক ঔষধ পান ইননুস আলী। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করে ইননুস আলী এও জানান যে, সকালবেলা উনি যখন গরু গুলোকে নিয়ে টিলা জায়গায় গিয়ে টিলা জায়গায় গরু গুলোকে ছেড়ে বাড়িতে ফেরেন তখন রাস্তায় লালমারি দারলং, সাংগি দারলং এবং লাল এন কুয়ালা দারলং-এর সাথে দেখা হয় এবং তাদের সাথে কথাবার্তাও হয়েছে বলে জানান। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্লাস্টিক ব্যাগ দেখতে পান। এই প্লাস্টিক ব্যাগ গুলো পরবর্তী সময়ে মৃত গরুর মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় অসহায় ইননুস আলী হতভম্ব হয়ে পাশ্ববর্তী দারলং গ্রামের চেয়ারম্যানকে সম্পুর্ন ঘটনা জানানোর পর চেয়ারম্যান ইননুস আলীকে আশ্বস্ত করেন যে, চিন্তা করিও না, তুমাকে ন্যায্য বিচার করে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। এই ঘটনার জন্য পুলিশকে এবং মিডিয়াকে না জানানোর জন্য ইননুস আলীকে বলেছিলো চেয়ারম্যান। পরবর্তী সময়ে গ্রামে শালিসি বৈঠক করে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে না পেরে চেয়ারম্যান ইননুস আলীকে জানিয়ে দেয় যে, তুমি যা পারো করে নিও। এই কথা শোনার পর ইননুস আলী কৈলাসহর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পরও পুলিশ মামলাটি রেজিষ্ট্রি করেনি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নি। মৃত গরু গুলোর ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশকে বার বার বলার পর পুলিশ জানিয়ে দেয় যে, পশু হাসপাতালে গিয়ে নিজেরা কথা বলে ময়নাতদন্ত করে নিতে। পুলিশের কথা মতো ইননুস আলী কৈলাসহরের পশু হাসপাতালে গিয়ে পশু চিকিৎসকদের জানানোর পর চিকিৎসকরা জানায় যে, পুলিশ উনাদের না বললে কিংবা পুলিশের লিখিত আদেশ না পেলে উনারা ময়নাতদন্ত করতে পারবে না। পশু চিকিৎসকদের এই কথা শোনার পর ফের কৈলাসহর থানায় গিয়ে জানানোর পর পুলিশ জানায় যে, পশু চিকিৎসকদের টাকা পয়সা দিলে চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করে দেবে। এভাবে করে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও আজ অব্দি কৈলাসহর থানার পুলিশ ইননুস আলীর মামলাটি রেজিষ্ট্রি করেনি এবং পুলিশ আজ অব্দি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নি। মৃত গরু তিনটি এক সপ্তাহ ধরে একই জায়গায় পড়ে থাকায় এলাকা জুড়ে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পাশ্ববর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষেরা নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছে না পচা দুর্গন্ধের জন্য। পুলিশের এই অমানবিক কান্ডে গোটা বাঘাছড়া গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৈলাসহর থানা সূত্রে জানা যায় যে, শাসক দলের মন্ডলের প্রভাবশালী এক মাতব্বরের আঙ্গুলি হেলনের কারনে পুলিশ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। ঘটনাকারীদের কাছ থেকে মন্ডলের সেই ।মাতব্বর মোটা অংক পেয়ে পেয়েছে। সেজন্যই পুলিশ কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে ।