নিজস্ব প্রতিনিধি:বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবিতে কদমতলায় পথ অবরোধ!চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ!!উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লক এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে কদমতলা অটোস্ট্যান্ড সংলগ্ন তেমাথা এবং সবজি বাজারের চল্লিশদ্রোন সড়কের মুখে পথ অবরোধে সামিল হন স্থানীয় বিএমএস শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা, অটোচালক, ই-রিকশাচালক, যানবাহনের মালিক এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কদমতলা–রানীবাড়ি সড়ক, কদমতলা বাজার থেকে চল্লিশদ্রোন ভায়া তারকপুর–সরসপুর সড়ক এবং কদমতলা–ধর্মনগর মূল সড়কের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কের সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গ্রহণ না করায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।অবরোধকারীদের দাবি, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু না হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বৃহত্তর কদমতলা ব্লকের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।বিক্ষোভকারীরা আরও দাবি করেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারের জন্য অনেক আগেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গড়িমসির কারণে এখনও কাজ শুরু হয়নি। ফলে যাত্রীবাহী অটো, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা, টুকটুক, ছোট গাড়ির চালক এবং সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জীবিকার স্বার্থেই চালক ও গাড়ির মালিকরাও আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানান তাঁরা।বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অবরোধের জেরে স্কুলপড়ুয়া, সরকারি কর্মচারী, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যদিও মানবিক কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের অবরোধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়। অবরোধের ফলে রাস্তার দু'পাশে অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন আটকে পড়ে এবং গোটা এলাকায় তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কদমতলা থানার পুলিশ উপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আধিকারিক সেখানে পৌঁছাননি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।