নিজস্ব প্রতিনিধি: গোটা ত্রিপুরা জুড়ে ‘ইন্দ্রধনুস’ প্রকল্পের আওতায় গ্যাস লাইন সম্প্রসারণের কাজ জোরকদমে এগোলেও, দীর্ঘদিন ধরে তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের অন্তর্গত ১৮ মুড়া পাহাড়ের শ্রীরামখরা এলাকায় পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ নানা জটিলতায় আটকে ছিল। অবশেষে সেই অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল বৃহস্পতিবার।
এদিন তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী Bikash Debbarma, মহকুমা শাসক Apurba Krishna Chakraborty সহ বিভিন্ন লাইন দপ্তরের আধিকারিকরা। মূলত গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রশাসনিক ও স্থানীয় সমস্যার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছিল, সেগুলি দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।সূত্রের খবর, ইন্দ্রধনুস প্রকল্পের আওতায় প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও গ্যাস পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু শ্রীরামখরা এলাকায় জমি সংক্রান্ত জটিলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে ছিল। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল।বৈঠকে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা স্পষ্ট বার্তা দেন, জনস্বার্থে নেওয়া উন্নয়নমূলক কাজ কোনওভাবেই দীর্ঘদিন আটকে রাখা যাবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুততার সঙ্গে সমস্যাগুলির বাস্তবসম্মত সমাধান বের করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, উন্নয়নের কাজে যাতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সমন্বয় বজায় থাকে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজে যে বাধাগুলি রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, “উন্নয়নের কাজ মানুষের জন্য। কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান করা হবে। খুব দ্রুত সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ পুনরায় গতি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”প্রশাসনের এই উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত গ্যাস পরিষেবা কবে বাস্তবে পৌঁছাবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ১৮ মুড়া পাহাড়ের মানুষ।