নিজস্ব প্রতিনিধি: ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের গৌরনগর আরডি ব্লকের অন্তর্গত ফুলবাড়ীকান্দি পঞ্চায়েতের বরখলা গ্রামের ফুলবাড়ীকান্দি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নাবালক পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাদ্রাসার ‘ছোট হুজুর’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পড়ুয়ার পিতা মনাফ আলি।মনাফ আলির অভিযোগ, পড়াশোনার সময় একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় নাবালককে মারধর করা হয়। অভিযোগ, এতে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পড়ুয়ার ওপর মারধরের ঘটনা ঘটছে।ঘটনার পর বিষয়টি জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলের ওপর নির্যাতনের কারণ জানতে চান তার বাবা। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপরই রবিবার রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মনাফ আলি।সংবাদমাধ্যমের কাছে নাবালকের পিতা বলেন, পড়া না পারলে শাসন করা এক বিষয়, কিন্তু শিক্ষার নামে একজন নাবালককে অমানবিকভাবে মারধর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ছবি ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার পবিত্র পরিবেশের আড়ালে নাবালক পড়ুয়াদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে?শিক্ষার নামে শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে নাবালকের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার ছোট হুজুর বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তের পরই অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।