নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়েকজন মহিলা মিলে টাটা কালীবাড়ির মতোই আরেক মহিলার উপর চওড়াও হয়ে রাস্তার ফেলে মারধর করেছে বলে অভিযোগ।আমতলী থানার অন্তর্গত বিক্রমনগরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের পর্দাফাঁস, স্থানীয়দের হাতে ধৃত দুই জোড়া যুবক-যুবতী, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম।সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক অধঃপতনের এক চরম এবং লজ্জাজনক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল আমতলী থানার অন্তর্গত বিক্রমনগর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকা। স্থানীয় একটি নির্দিষ্ট বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী আগরতলা থেকে যুবতী ও বিবাহিত মহিলাদের এনে অসামাজিক কার্যকলাপ তথা মধুচক্র চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা একজোট হয়ে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে দুই জোড়া যুবক ও বিবাহিত মহিলাকে আপত্তিকর অবস্থায় পাকড়াও করেন। এলাকার পবিত্র সামাজিক পরিবেশ কলুষিত করার অপরাধে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের গণধোলাই দেয়।অভিযুক্তদের মধ্যে রাজধানী আগরতলার ধলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা প্রিয়ম বণিক নামে এক যুবকের নাম উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একটি চক্র বিক্রমনগরের শান্ত পরিবেশকে ব্যবহার করে এই ধরনের অসামাজিক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।ঘটনার সবচেয়ে নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক দিক হলো সত্য প্রকাশে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমকে। ঘটনার সঠিক তথ্য ও চিত্র ধারণের সময় এক অভিযুক্ত মহিলা কর্তব্যরত সাংবাদিকের ওপর আচমকা চড়াও হয়। গায়ের জোরে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। মুক্ত সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশকে রুখে দেওয়ার এই অপচেষ্টায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন হামলায় স্থানীয় মহিলারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অসামাজিক চক্রটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চড়াও হন। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এক অভিযুক্তকে আটক করে হেফাজতে নেয়। তবে ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চক্রের অপর দুই যুবক ও এক মহিলা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে যুক্ত বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একটি সুস্থ, অপরাধমুক্ত ও নৈতিক সমাজ গড়ার স্বার্থে এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একসুরে দাবি—অভিযুক্ত প্রিয়ম বণিক সহ পলাতক সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সামাজিক নীতি-নৈতিকতা ও পরিবেশ বিনষ্ট করার দুঃসাহস না দেখায়।