নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ২৬শে আগস্ট বুধবার উদয়পুর বিবেক সংঘ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আগরতলার বেসরকারি আইএলএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা বিশিষ্ট কবি, লেখক ও প্রকাশক প্রীতম ভট্টাচার্য। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে উদয়পুর জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শুক্রবার ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশন থাকায় শনিবার প্রয়াত প্রীতম ভট্টাচার্যের উদয়পুর জগন্নাথ চৌমুহনী এলাকার বাসভবনে যান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা রাধাকিশোরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রণজিৎ সিংহ রায়। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং প্রয়াতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।এদিন প্রীতম ভট্টাচার্যের বাসভবনে বসেই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে গোমতি জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার অনির্বাণ দাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাইক মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আবেদন জানান।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, মৃত্যু চিরন্তন সত্য। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু এমন গভীর শোকের জন্ম দেয়, যার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা উদয়পুর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক ও প্রকাশক প্রীতম ভট্টাচার্যকে হারিয়েছি। তাঁর অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতেও প্রীতম ভট্টাচার্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর মৃত্যু সমাজ ও সংস্কৃতি জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। একজন গুণী শিক্ষক, সৃজনশীল সাহিত্যিক ও প্রকাশক হিসেবে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এদিন মন্ত্রী প্রয়াতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।শেষে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রয়াত প্রীতম ভট্টাচার্যের আত্মার শান্তি কামনা করেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় এবং শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রদানের জন্য প্রার্থনা করেন। এদিকে প্রীতম ভট্টাচার্যের অকাল প্রয়াণে শিক্ষক মহল, সাহিত্যপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।