আগরতলা: আলোর উৎসব দীপাবলি ও শ্যামা পূজা উপলক্ষে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে আগরতলা শহর। আগরতলা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সার্বজনীন কালী পূজা কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ১১তম দীপাবলি উৎসব ও শ্যামা পূজা। এই উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাধারঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা মীনারানী সরকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর হরিসাধন দেবনাথ, বিবেকনগরের মহারাজ স্বামী দিবানন্দ এবং রাজ্যের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূজা কমিটির কর্মকর্তারা, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা দীপাবলি ও শ্যামা পূজার তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দীপাবলি শুধুমাত্র আলোর উৎসব নয়, এটি অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জয়, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে। এই ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনেই ছিল নানা আকর্ষণীয় আয়োজন। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিভাদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিনটি আনন্দমুখর হয়ে ওঠে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই থাকছে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। দীপাবলি ও শ্যামা পূজাকে ঘিরে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আলোকসজ্জা, পূজার আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে এক মনোরম পরিবেশ।সার্বজনীন কালী পূজা কমিটির এই উদ্যোগে ১১তম বর্ষের দীপাবলি উৎসব ও শ্যামা পূজা এলাকার মানুষের কাছে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।