নিজস্ব প্রতিনিধি: তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামি ব্লক এলাকায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব রাজনৈতিক ভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ভোট শেষে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট-বন্দি সিল করা বাক্স জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেরার পথে বিজেপির এক কর্মী এবং গাড়িচালককে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় দু’জনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ মুড়া এডিসি ভিলেজের এনডিএ জোটের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী তশীল দেববর্মার ভোটের সিল করা বাক্স মুঙ্গিয়াকামি ব্লকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর মুঙ্গিয়াকামি ব্লক সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি কর্মী সঞ্জয় দেববর্মা এবং গাড়িচালক পরিমল দাসের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে অগ্নিনির্বাপক দফতরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী লক্ষ্মীরঞ্জন দেববর্মার বিরুদ্ধে।অভিযোগ অনুযায়ী, রাস্তার উপর তাঁদের দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনায় দু’জনই আহত হন। খবর পেয়ে তাঁদের দ্রুত মুঙ্গিয়াকামি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত প্রায় ৯টা নাগাদ জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।ঘটনার খবর পৌঁছতেই মুঙ্গিয়াকামি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা-সহ ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের একাংশের বিজেপি নেতৃত্ব। আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য কী কী ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিয়েও চিকিৎসকদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন মন্ত্রী।পরবর্তীতে আহত সঞ্জয় দেববর্মা ও পরিমল দাসকে গুরুতর অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিজেপি রাজ্য যুব মোর্চার স্বচ্ছ ভারত ইনচার্জ নির্মল দেবনাথ-সহ বিজেপির একাংশ নেতৃত্ব জিবিপি হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহত দু’জনের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তাঁরা।বর্তমানে জিবিপি হাসপাতালে দু’জনেরই চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে তিনি আশাবাদী।তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর এমন ঘটনায় মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।