নিজস্ব প্রতিনিধি: কন্টেনার চালককে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ!বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে ধর্মনগরের হাফলং বাজার সংলগ্ন এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এক কন্টেনার গাড়ির চালককে একদল যুবক মারধর করার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও প্রায় ১২ ঘণ্টা পরও কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত চালক। জানা গেছে, কৈলাশহরের বাসিন্দা পিন্টু মাইশো দাস গতকাল রাতে আগরতলা থেকে একটি কন্টেনার গাড়িতে অনলাইন সামগ্রী নিয়ে শিলচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পথে হাফলং বাজার সংলগ্ন এলাকায় একদল যুবক বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা দাবি করে তাঁর গাড়ি থামিয়ে আটকায় বলে অভিযোগ। পিন্টুর দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই চাঁদা দিয়েছেন বলে জানিয়ে পুনরায় চাঁদা দেওয়ার কারণ জানতে চান। অভিযোগ, এরপরও তাঁকে ফের চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পিন্টুর আরও অভিযোগ, তাঁর কাছে গাড়ির লাইন খরচ বাবদ প্রায় ২২ হাজার টাকা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার টাকা গাড়িতে জ্বালানি ভরার কাজে খরচ হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা তাঁর কাছে ছিল। অভিযোগ, সেই অবশিষ্ট নগদ টাকাই তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যায় যুবকদের দল। ঘটনার পর রাতেই তিনি থানায় বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন পিন্টু। তবে তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।এদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে পিন্টু একটি রসিদও দেখান। তাঁর দেখানো রসিদে ‘ধর্মনগর মিডিয়াম ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। পিন্টুর দাবি, বিশ্বকর্মা পূজার চাঁদা সংগ্রহের সঙ্গে ওই সংগঠনের নাম জড়িত রয়েছে। রসিদে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে কানু চন্দ্র নাথ এবং সম্পাদক হিসেবে বিজয় দেবের নাম উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি জানান।ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে রসিদে উল্লিখিত সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং কারা চাঁদা সংগ্রহ করছিল, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন পিন্টু। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে PNG সংগঠনের কর্মকর্তারা ধর্মনগর থানায় যান বলে জানা গেছে। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বলেও খবর। তবে কন্টেনার চালককে মারধর, তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া এবং চাঁদা আদায়ের ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাফলং বাজার সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।