নিজস্ব প্রতিনিধি;কলাছড়ায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানো, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ। আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।ঘটনা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, শাসকদল বিজেপির আশ্রয়পুষ্ট আশ্রিত দুষ্কৃতীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, দুষ্কৃতীরা প্রথমে বাড়ির প্রধান গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীকালে ছোট গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং গৃহকর্তা মৃণাল সেন ও তার ছেলেকে টার্গেট করে হামলা চালায়। গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে গৃহবধূর শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তাদের ওপর শারীরিক আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়।
শাসনব্যবস্থা ও শাসকদলকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, "২০১৮ সালের পর থেকে কলাছড়ায় বিজেপির নেতৃত্বে কিছু মাতব্বরের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি লুটপাট, কমিউনিটি হল দখল, হাসপাতালে অবৈধ কাজকর্ম থেকে শুরু করে স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলোকে দুহন করা হচ্ছে। গত সাড়ে আট বছর ধরে এই অঞ্চলে এক অরাজক পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী ‘আইন আইনের পথে চলবে’ এবং ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। জিতেন চৌধুরীর কটাক্ষ, "বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গন্ধ পেলেই মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বিজেপিকে রক্ষা করার ঢালে পরিণত হয়।"
অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে যুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দুষ্কৃতীরা যদি শাস্তি না পায়, তবে কলাছড়াবাসীকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিরোধীরা প্রস্তুত রয়েছে।