নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিকূলতা আর কঠোর পরিশ্রমকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করেছেন জুডো খেলোয়াড় অসমিতা দে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করা এই সোনার কন্যাকে এবার অভিনব উপহারে সম্মান জানাতে চলেছে ত্রিপুরা সরকার। অসমিতা ও তাঁর পরিবারের হাতে আগরতলা শহরের উজান অভয়নগর এলাকায় প্রায় আড়াই গণ্ডা বসতবাড়ির জমি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই জমি উপহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বলে জানা গেলেও ভবিষ্যতে এর মূল্য আরও বাড়তে পারে। রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে অসমিতার ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অসমিতার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। তাঁর বাবা পেশায় সাইকেল মেকানিক ছিলেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। পরবর্তীতে বাবাকে হারালেও মা অসমিতাকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণপদক জয়ের পরও অসমিতা বারবার তাঁর প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই অসমিতার জন্য শহরের মধ্যে জমি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দফতর আগরতলা শহরের উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করে। সম্প্রতি অসমিতার মা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওই জমি পরিদর্শনও করেন। জমিটি তাঁদের পছন্দ হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, ইতিহাস সৃষ্টি করে ত্রিপুরায় ফিরছেন অসমিতা দে। বুধবার সকালে বিমানে আগরতলা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিমানবন্দরে নামার পর ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, ক্রীড়া দফতরের আধিকারিক, জুডো অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনেরা তাঁকে সংবর্ধনা জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে অসমিতাকে রাজ্য অতিথিশালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর দুপুর ১টা নাগাদ বিশেষ র্যালির মাধ্যমে তাঁকে শহরে নিয়ে আসা হবে। পরে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সেখানেই তাঁর হাতে জমি উপহারের ঘোষণা ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে ভারতকে প্রথমবারের মতো এই ইভেন্টে সোনা এনে দিয়েছেন ত্রিপুরার মেয়ে অসমিতা দে। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের গর্ব। স্বর্ণপদকের পর এবার আগরতলা শহরে জমি—অসমিতার এই সম্মান যেন তাঁর সংগ্রামী অতীত, তাঁর মায়ের ত্যাগ এবং প্রয়াত বাবার স্বপ্নের প্রতিও এক বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।