নিজস্ব প্রতিনিধি:বামুটিয়া বিধানসভার কালিবাজার এলাকায় এক অসহায় পরিবারের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন পরিমল দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।পরিবারের দাবি, ২০১২ সালে সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাঁদের মেয়ে লিপিকা দাসের বিয়ে হয় খোয়াই এলাকার বাসিন্দা অন্তু দাসের সঙ্গে। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তু দাস কোর্ট ম্যারেজের কথা বলে আইনি প্রক্রিয়ার অজুহাতে পরিমল দাসকে কয়েকটি স্ট্যাম্প পেপার ও নথিতে স্বাক্ষর করান। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা নিরক্ষর ও সরল-সোজা হওয়ায় কোনো নথি যাচাই না করেই জামাইয়ের কথায় বিশ্বাস করে স্বাক্ষর করেছিলেন।অভিযোগ অনুযায়ী, পরে অন্তু দাস লিপিকা দাসকে বাংলাদেশে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে লিপিকা জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের নথি নেই এবং তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এই অন্তদাস ভারতের থেকে বিভিন্ন বাংলাদেশী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পারাপারের সাহায্যও করছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে লিপিকার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরিবারের উদ্যোগে তাঁকে গর্ভবতী অবস্থায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।পরিবারের দাবি, কিছুদিন পর অন্তু দাস আদালতের কাগজপত্র নিয়ে এসে বাড়ির দখল নিতে চান। তখন খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, কোর্ট ম্যারেজের নামে স্বাক্ষর করানো নথির মাধ্যমে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ও জমি অন্তু দাসের নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে।পরিবারের আরও অভিযোগ, এর আগেও কোমলপুর এলাকায় একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল অন্তু দাসের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি পরিবারের।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অন্তু দাস কিছুদিন পর পর এখানে এসে ওই অসহায় পরিবার টিকে প্রাণে মারার হুমকি ও দেখাচ্ছে। এবং তার সাথে জড়িত আছে এলাকার কিছু জমি মাফিয়াআর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।