নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রিপুরা রাজ্যের সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা, আটবারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন বনমন্ত্রী ফয়জুর রহমানের শেষকৃত্য শনিবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে উত্তর ত্রিপুরাসহ সমগ্র রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।শনিবার ভোররাত প্রায় ১টায় উত্তর ত্রিপুরা জেলার লালছড়াস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, দুই পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার কারণে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
শনিবার বিকেল প্রায় ৩টায় তাঁর বাসভবনের সম্মুখবর্তী মাঠে ত্রিপুরা পুলিশ ও টিএসআর (ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস)-এর জওয়ানরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় রীতি অনুসারে জানাজা নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবযানী চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কমল দেববর্মা, কদমতলা-কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন, বাগবাসা বিধানসভার বিধায়ক যাদব লাল নাথ, যুবরাজনগর বিধানসভার বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, জেলা বিজেপি নেতৃত্ব, বিভিন্ন মণ্ডলের সভাপতি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ।এদিন জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন বলেন, “সমস্ত প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনে এবং যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ফয়জুর রহমানকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
অন্যদিকে কদমতলা-কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “ফয়জুর রহমান ছিলেন এই অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় জননেতা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক তিনি বিধায়ক হিসেবে জনগণের সেবা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বনমন্ত্রী, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, এই এলাকার মানুষের অভিভাবক ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”উল্লেখ্য, ফয়জুর রহমান ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ জননেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জনসেবামূলক কাজ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক জীবনে তাঁর দীর্ঘ অবদানের জন্য তিনি সর্বমহলে সম্মানিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।