নিজস্ব প্রতিনিধি: চুরাইবাড়ির লক্ষীনগরে মানব পাচারের অভিযোগ,পলাতক দীপন দাসকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব গ্রামবাসী!!ত্রিপুরার তিন দিক ঘিরে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তকে কেন্দ্র করে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা দিন দিন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। সীমান্তের বহু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকা এবং পুরনো বেড়ার জীর্ণ অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে মানব পাচারকারী ও দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে।এরই মধ্যে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ত্রিপুরা-অসম সীমান্তবর্তী চুরাইবাড়ি থানাধীন লক্ষীনগর গ্রামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত দীপন দাসকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার রাতে সরব হন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ লক্ষীনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে মোঃ হারুন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার পকিয়া গ্রামে। অভিযোগ, দীপন দাস ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এনে ভিন্ন পরিচয়ে দীর্ঘদিন নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ভারতীয় পরিচয়পত্র সহ বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরিতেও সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।গ্রামবাসীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচার এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথিপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল দীপন দাস। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, দীপন দাস একসময় জেলা আদালতে মুহুরীর কাজ করতেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বহু বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভুয়ো নথিপত্র তৈরির ব্যবস্থা করতেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নথিপত্র তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের বাংলাদেশি অর্থ নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ পরবর্তীতে অসমের শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগর এলাকায় ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হতো।গ্রামবাসীদের আরও দাবি, একসময় আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকা দীপন দাস অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন, যা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ছিল।বুধবার রাতে লক্ষীনগর গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে পলাতক অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, চুরাইবাড়ি থানার পুলিশের ওপর আস্থা থাকলেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।স্থানীয়দের মতে, মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো ভারতীয় নথিপত্র তৈরির মতো কর্মকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। তাঁদের দাবি, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে অবৈধ মানব পাচার ও জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর চক্রেরও পর্দাফাঁস হতে পারে।