নিজস্ব প্রতিনিধি: গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে নাকা চেকিং চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধার করল ধর্মনগর থানার পুলিশ। বুধবার বিকেলে ধর্মনগর থানার অন্তর্গত আনন্দবাজার নাকা চেকিং পয়েন্টে একটি চারচাকা মালবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৯৫ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় গাড়ির চালক ও সহচালককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্মনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মিনা দেববর্মার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও টিএসআর জওয়ানদের নিয়ে আনন্দবাজার এলাকায় নাকা চেকিং চলছিল। সেই সময় আগরতলা থেকে ধর্মনগরের দিকে আসা একটি চারচাকা মালবাহী গাড়িকে সন্দেহ হওয়ায় থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির নম্বর TR01BC1518। তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির ভিতরে রাখা কালো প্লাস্টিকের ট্রেগুলোর নিচে একটি বিশেষভাবে তৈরি গোপন কক্ষের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। ওই গোপন কক্ষ খুলে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা। পুলিশ জানায়, মোট ২০টি বান্ডিলে গাঁজাগুলি অত্যন্ত কৌশলে গাড়ির গোপন চেম্বারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, গাঁজা লুকিয়ে রাখার জন্য গাড়ির ভিতরে বিশেষ কায়দায় গোপন কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। তল্লাশির সময় ওই কক্ষ থেকে গাঁজার বান্ডিল বের করতেও পুলিশকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনায় গাড়ির চালক ও সহচালককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন আগরতলার রামনগর এলাকার মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে জোলাল উদ্দিন এবং আগরতলা বর্ডার গোল চক্কর এলাকার মুখলেস মিয়ার ছেলে মমিন মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১৯৫ কেজি শুকনো গাঁজার কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। গাঁজাগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার কাছ থেকে তা নেওয়া হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও আটক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। নাকা চেকিংয়ে পুলিশের এই বড়সড় সাফল্যে আন্তঃজেলা মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।