নিজস্ব প্রতিনিধি :তেলিয়ামুড়ার ঘিলাতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত জলিলুর রহমানের মৃত্যু ও গরু চুরির ঘটনাকে ঘিরে এবার সরব হলো ত্রিপুরা রাজ্য জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তেলিয়ামুড়া থেকে ঘিলাতলী এলাকায় গিয়ে মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জমিয়তের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মৃত জলিলুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। মৃতের পিতা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন এবং কী পরিস্থিতিতে জলিলুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও পরিবারের বক্তব্যও খতিয়ে দেখেন তারা।পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর প্রতিনিধি দলটি তেলিয়ামুড়া থেকে আগরতলায় ফিরে আসে। এরপর আগরতলার গেদু মিয়া মসজিদে ত্রিপুরা রাজ্য জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সাংবাদিক সম্মেলনে জমিয়তের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ঘিলাতলী এলাকার গরু চুরি এবং জলিলুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য তারা পেয়েছেন, সেই বিষয়গুলিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা।জমিয়তের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে মৃতের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়।এর আগে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে কল্যাণপুর থানার ওসির কাছেও ডেপুটেশন প্রদান করে জমিয়তের প্রতিনিধি দল। জমিয়তের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।জমিয়তের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মুফতি তৈয়ীবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক চান মিয়া-সহ অন্যান্য সদস্যরা।জলিলুর রহমানের মৃত্যু এবং ঘিলাতলী এলাকার গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর জমিয়তের সাংবাদিক সম্মেলনের ফলে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এখন পুলিশের তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং প্রকৃত ঘটনা কীভাবে প্রকাশ্যে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।