নিজস্ব প্রতিনিধি: বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া, এক স্কুল পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে ৬০ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে ছেলেটির পরিবারের হাতে তুলে দিল।নিজের ছেলে সন্তানকে পুনরায় হাতে তুলে দেওয়ায় পুলিশ, প্রশংসায় পঞ্চমুখ সন্তানের পিতা-মাতা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর থানা এলাকার সীমান্ত গ্রাম যাত্রাপুর পাড়ার ৩ নং ওয়ার্ডের বসবাসরত পরিবারের ১৪ বছরের ছেলে রফিউল হোসেন নামে ছেলেটি সকালবেলায় মা-বাবাকে প্রাইভেট টিউশনিতে পড়তে যাওয়ার কথা বলে একেবারে চলে যায় আগরতলার রেল স্টেশনে। আসাম গামী রেলওয়েতে করে চলে যায় শিলচর স্টেশনে। ওখানে গিয়ে ঘোরাফেরা করে, তখনই সন্দেহ হয় শ্রীকোনা আউটপুস্টের পুলিশের। তার সাথে তখন কথাবার্তা বলে, সন্দেহ পুলিশের সন্দেহ আরো গণিভুত হয়। ছেলেটির স্কুল ইউনিফর্মে ফোন নাম্বার ছিল। এই ফোন নাম্বার থেকে পুলিশ প্রথমে ফোন করে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং পরবর্তী সময় যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থনাথ ভৌমিকের সাথে কথা বলে। সঙ্গে সঙ্গে ওসি ছেলেটির বাবা কে সঙ্গে নিয়ে দুজন পুলিশ পাঠায় নির্দিষ্ট স্থানের উদ্দেশ্যে। ছেলেটি বাঁশপুকুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। এদিকে, যেদিন উধাও হয়ে যায় বাড়ি থেকে, পিতা মাতা আত্মীয়-স্বজন সবাই খোঁজাখুঁজি করার পর না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ই সেপ্টেম্বর বিকেল বেলায় যাত্রাপুর পুলিশের কাছে ছেলেটিকে উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। ছেলেটি বাড়ি থেকে সকালবেলায় প্রাইভেট টিউশনিতে যাওয়ার পূর্বে দুই পৃষ্ঠার একটা লেখা টেবিলের উপরে রেখে যায়। লেখাতে স্পষ্ট রয়েছে তার জন্মদাতা পিতা নাকি সব সময় তার উপর অত্যাচার চালায়, মারধর করে ইত্যাদি। কিন্তু, যাত্রাপুর থানা থেকে যখন ছেলেটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে আসেন তখন ছেলেটির পিঠা স্পষ্ট বলছেন না, এই জাতীয় ঘটনা কোনদিন হয় নাই! এখন দেখার বিষয়, আদৌ কি জন্মদাতা পিতার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যাওয়াটা সঠিক হল! এক বিরল ঘটনার সাক্ষী রাখল অপ্রাপ্তবয়স্ক এই ছেলেটি!এদিকে যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থনাথ ভৌমিক জানান, দেখুন আমি সঙ্গে সঙ্গে দুজন পুলিশ পাঠিয়েছি এবং এদের সাথে ছিল ছেলেটির পিতা এবং ছেলের মামা। চারজনের একটি টিম শিলচর গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে উদ্ধার করে এই কিশোর টিকে। যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থনাথ ভৌমিক আরো জানান, ছেলেটির প্রতি যাতে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয় তার জন্য পরিবারের বিশেষ করে পিতার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও এর পেছনে অন্য কোন রহস্য লুকিয়ে আছে কিনা পুলিশ খোঁজখবর নেবেন, এমনটাই যাত্রাপুর থানার ওসি জানালেন।