নিজস্ব প্রতিনিধি : তেলিয়ামুড়া ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে নিবাস চন্দ্র দাস দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই শহরের ট্রাফিক ব্যাবস্থার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিতে প্রতিদিনই অবৈধ পার্কিং, যানজট এবং ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ, সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিনই আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের তেলিয়ামুড়া শহর সংলগ্ন বিভিন্ন অংশে অবৈধ পার্কিংয়ের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও ব্যাস্ততম মোড় গুলিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষ'কে। যদিও মাঝে মধ্যে একজন এসপিও বা কনস্টেবল'কে মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এত বড় এলাকায় একজন কর্মীর পক্ষে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা যায় সপ্তাহের দুই হাটবার—সোমবার ও শুক্রবার। ওই দিন গুলোতে তেলিয়ামুড়া ফল বাজার থেকে অম্পি চৌমুহনী পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দু'পাশ কার্যত অস্থায়ী টমটম ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়।
শতশত টমটম ও অটোরিকশা রাস্তার ধারে অবৈধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে জাতীয় সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এর ফলে যেকোনও সময় অ্যাম্বুলেন্স, দমকল কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার গাড়ি আটকে পড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে একাধিক ট্রাফিক ইনচার্জ তেলিয়ামুড়ায় দায়িত্ব পালন করলেও ট্রাফিক ব্যাবস্থার এমন করুণ চিত্র কখনও দেখা যায়নি।
তাদের অভিযোগ, বর্তমান ইনচার্জের আমলেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যাবস্থা কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।
এদিকে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে আরও অভিযোগ, ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাস নিজের পছন্দের কয়েকজন কর্মী'কে অফিসের কাজে নিয়োজিত রাখলেও মাঠ পর্যায়ে কর্মীর ঘাটতি প্রকট। অথচ ট্রাফিক অফিসে তেমন উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক কাজ না থাকা সত্ত্বেও বহু এসপিও ও কনস্টেবল'কে দফায় দফায় বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট ও অব্যাবস্থার দায় কে নেবে? জাতীয় সড়কে প্রতিদিনের বিশৃঙ্খলা কি প্রশাসনের নজরে পড়ছে না, নাকি সব দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
তবে এ বিষয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ গুলি অস্বীকার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন বহু স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং মাঠে নামলেই সেই বেহাল অবস্থার প্রমাণ মিলবে।