বন্ধুর সরলতা নিয়ে তিন যুবক মিলে বন্ধুকে হত্যার চেষ্টা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: গভীর জঙ্গলে নিয়ে ছিনতাই করে নিয়ে গেল নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং এক ভুড়ির অধিক ওজনের স্বর্ণের চেইন!! পরবর্তী সময়ে অভিযোগ জানিয়ে বন্ধুসহ তিন যুবকের বিরুদ্ধে প্রথমে মধুপুর থানায় পরে বিশালগড় থানায় মামলা দায়ের করে সোমবার রাতে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় মধুপুর থানাদিন হরিহরদুলা এলাকার রনি মিয়া গতকাল সন্ধ্যা বেলা তার নিজ বাড়ি থেকে পুরাতল তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বিশালগড় বাজারে গিয়ে সেখান থেকে ফল কিনে ঘনিয়ামারা এলাকার তার এক বন্ধু আকাশের সাথে যোগাযোগ করে। হয়তো আকাশকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। ঘনিয়ামারা চৌমুহনী এলাকা যেতেই রনি মিয়ার আড়ালে তার বন্ধু আকাশ আরো দুই যুবকের সাথে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাই অরবীন্দ্রনগর স্কুলের পাশে। সেখানে গিয়ে রাজু জয়নাল এবং আকাশ তিনজন মিলে প্রচুর মারধোর করে রনি মিয়াকে। একটা সময় উদ্দেশ্য ছিল তাকে প্রাণে মেরে সেখানে ফেলে চলে আসবে। পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং এক ভুরির অধিক ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যাই। তার কাপড়-চোপড় ছিড়ে ফেলে এবং পায়ে এবং কোমরের প্রচণ্ড ভাবে আঘাত করে লাঠির মাধ্যমে। গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ায় তার চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন সময় রনি মিয়ার মোবাইলে ফোন আসে তার বাবার। কুড়ি হাজার টাকা পাঠিয়েছে তার বোনকে দিয়ে আসার জন্য। সেই খবরটুকু জেনে যাই সেই তিন কুখ্যাত অপহরণকারী আকাশ জয়নাল এবং রাজু। সঙ্গে সঙ্গেই রনি মিয়াকে সেখান থেকে বাইকে চেপে বিশালগড়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে সেই কুড়ি হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। একটা সময় রনি মিয়া বিশালগড় নিয়ে আসলে বাইক থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে কোনরকমে তার জীবন বাছায় বিশালগড় থানায় এসে আশ্রয় নিয়ে। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রথমে বিশালগড় থানায় এবং পরে মধুপুর থানায়। এদিকে রনি মিয়া অভিযোগ করেন সেই ঘটনার মূল নায়ক ঘনিয়ামারা এলাকা টিটু আহমেদ। সম্পূর্ণভাবে মদত দিয়েছে টিটু আহমেদ বলে অভিযোগ করেন। পরে রনি মিয়া থানায় মামলা দায়ের করে সোমবার রাত বারোটা নাগাদ অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবী রাখলেন। নিত্যদিন এই এলাকার মধ্যে চুরি,ছিনতাই,পিস্তল নিয়ে ছুটাছুটি ইত্যাদি বেড়ে চলেছে। প্রশাসন যদি সুষ্ঠু পদক্ষেপ না নেই হয়তো আগামী দিন বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে।
কৈলাসহরে বিদ্যাজ্যোতি স্কুলের শীর্ষে আয়ুষ, উচ্ছ্বাস শহরজুড়ে
নিজস্ব প্রতিনিধি: সিবিএসই-র AISSE (মাধ্যমিক) পরীক্ষা ২০২৬-এ রাজ্যের ১২৫টি বিদ্যাজ্যোতি স্কুলের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে কৈলাসহরের মুখ উজ্জ্বল করলো নেতাজি বিদ্যাপীঠ ইংলিশ মিডিয়াম এইচএস স্কুলের ছাত্র আয়ুষ পাল। তার এই সাফল্যে শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।কৈলাসহর পৌর পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আয়ুষের বাবা অমিত পাল পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা মধুমিতা দেব গৃহিণী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবোধই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।আয়ুষ জানায়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গৃহ শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতাই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের লক্ষ্যে সে এগোতে চায়।ফলাফলে তার প্রাপ্ত নম্বর—ইংরেজিতে ৯৫, বাংলায় ১০০, গণিতে ৯৬, বিজ্ঞানে ১০০, সমাজবিজ্ঞানে ৮৭ এবং আইটিতে ৯৮; মোট শতাংশ ৯৭.০৮। এই কৃতিত্বে খুশি বিদ্যালয় পরিবারও।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, আয়ুষের এই সাফল্য অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এলাকার বাসিন্দারাও তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
মহিলার তান্ডবে ত্রস্ত এলাকাবাসী পুনরায় থানার দ্বারস্থ
নিজস্ব প্রতিনিধি: আমতলী বারুইটিলার উশৃঙ্খল মহিলা কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো মামলা দায়ের আমতলী থানায়! জানা গেছে বারুইটিলা এলাকার উশৃঙ্খল মহিলা হিসেবে পরিচিত কল্যাণী ঘোষ একাধিক বার এলাকার লোকজনদের উপর আক্রমণ করে থাকে।এই ঘটনায় মহিলার বিরুদ্ধে পূর্বে মামলাও হয়েছিল,যে মামলায় অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষ জেল হেফাজতেও ছিল, কিন্তু তারপরেও মহিলা নিজেকে শোধরাতে পারেনি। একই কায়দায় পাড়ার লোকজনদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীদের। গত ১ সপ্তাহ আগেও উনার বাড়ির পাশের এক ব্যক্তিকে প্রাণে মারার জন্য ধারালো দা দিয়ে আঘাত করেছিল। পরে উনার পরিবারের পক্ষ থেকে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করা হয় আটক করা হয়েছিল অভিযুক্ত মহিলাকে। এরপর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষ আবারও মঙ্গলবার একই পাড়ার রিপন দত্ত নামে এক যুবককে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয় মহিলাদের সহ রিপন দত্তের। অবশেষে মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ রিপন দত্ত আমতলী থানায় মারধর এবং ছিনতাই এর অভিযোগ এনে লিখিত আকারে মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে। এদিন মামলা করার সময় এলাকার মহিলারাও দল বেধে রিপন দত্তের সাথে থানায় গিয়ে জরো হয়। সেদিন রিপন দত্ত সহ এলাকার মহিলারা থানার সামনের দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষের যন্ত্রণায় এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ এবং আতঙ্কিত। আবারো যে কোনদিন যেকোনো সময় এই মহিলা এলাকার অন্য কারুর উপর আক্রমণ করতে পারে। তাই এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন যেন অভিযুক্ত কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করো।
নির্বাচনী সন্ত্রাস স্বরজমিনে খতিয়ে দেখিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ১৭-ই এপ্রিল রাজ্যে স্বশাসিত জেলা পরিষদ আদিবাসী উপজাতি ১০-তম সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। এডিসি ২৮-টি আসনের মধ্যে ২৪-টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেন তিফ্রামথা দল আর ৪-টি আসনে জয়লাভ করেন বিজেপি দল। আর ঐদিনের পর থেকেই রাজ্যের এডিসি ২৮-টি কেন্দ্রে তিফ্রামথা দলের কর্মীরা রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়ে শরীক দল তথা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল (রাজ্যের বর্তমান শাসক দল) এককথায় বিজেপি দলের মন্ডল কার্যালয় থেকে শুরু করে বহু একনিষ্ঠ কর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিক সংযোগ করেন। এখনও বিজেপি দলের বহু কার্যকর্তা এলাকা ছেড়ে অন্যত্ত্ব অবস্থান করছে। নির্বাচনের বিজেপি দলের দক্ষিণ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভারী তথা রাজ্যের মন্ত্রিসভার বর্তমান শাসকদলের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় আজ স্বরজমিনে নির্বাচনী সন্ত্রাস দেখতে আসলেন দক্ষিণ জেলাই। সাথে ছিলেন দক্ষিণ ও গোমতী জেলার জেলা পরিষদের সভাধিপতি, দক্ষিণ জেলার বিজেপি দলের জেলা সভাপতি, ৩৯ মনু ও ৪০ সাব্রুম এই দুই মন্ডলের মন্ডল সভাপতি, মনু- রাজনগরের বিজেপির দুই বিধায়ক, ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের এমডিসি কংঅজং মগ সহ আরো অন্যান্য নেতৃত্বরা। আজ দুপুরে প্রথমে ২৭ পূর্ব মুহুরীপুর-ভুরাতলী কেন্দ্রের অন্তর্গত ৩৯ মনু বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে কালী বাজার অগ্নি সংযোগ হওয়া বিজিবি কার্যালয় খতিয়ে দেখলেন। এরপর দ্বিতীয় ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের অন্তর্গত ৪০ সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে ৪৯ নাম্বার বুথে চাতকছড়ি হয়রাম পাড়ার হামক্রাই বাজারের অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় স্বরজমিনে খতিয়ে দেখলেন। পরিদর্শন শেষে যাওয়ার পথে ঐস্থানে মন্ত্রী সিংহ রায়কে বিজেপি দলের একনিষ্ঠ এক কার্যকর্তা জানান, নিজেদের মধ্যে নিজেরাই দূরত্ব নিয়ে বসে আছে। যার ফলশ্রুতি এটাই। এরপর তৃতীয় চালিতা বনকুল এলাকার দুইটি অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পঞ্চম মনু-বনকুল মহামনি বুদ্ধমন্দির সংলগ্ন টুরিস্ট প্লেজে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের চিত্র দেখে চলে যায় শিলাছড়ি অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় ও আক্রান্ত কার্যকর্তাদের দেখতে চলে যায় বলে জানা গিয়েছে। অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় তিনি সফর শেষে আরো জানান রাজ্যের মধ্যে সবচাইতে ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রে রাজনৈতিক সন্ত্রাস অধিক পরিমাণ হয়েছে বলে ক্যামেরার সামনে অভিযোগ করে জানান।
মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার তাণ্ডব!
নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার বিকেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় মহিলাটি। খবরে প্রকাশ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা রাস্তা দিয়ে হাতে লাঠি নিয়ে যাওয়ার সময় বাগমা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মারুতি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি শোরুমের সামনে শোরুমের ডিসপ্লে করে রাখা অটো গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। এছাড়ো আরো বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় বিকৃত মস্তিষ্কের মহিলাটি। এইভাবে পরপর পাঁচটি গাড়ির গ্লাস ভেঙেছে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর দেওয়া হয় বাগমা পুলিশ ফাঁড়িতে। বাগমা ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যদিও মহিলাকে গাড়িতে তুলতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে মহিলা পুলিশকে। যদিও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী মহিলাদের হস্তক্ষেপে সেই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিন দুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা দ্বারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক দেখা দেয় পথ চলতি মানুষের মধ্যে।
হজের যাত্রীদের শুভেচ্ছা বিনিময় জসীম উদ্দীনের
নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রিপুরা থেকে হজযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ। সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় আগামীকাল কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন রাজ্যের হজযাত্রীরা। সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ বছর মোট ৭৪ জন হজযাত্রী—এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ ও ১৯ জন মহিলা—আগামীকাল সকালে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখান থেকেই তারা পবিত্র হজযাত্রায় অংশ নেবেন।এই উপলক্ষে আজ আগরতলা হজ ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মাইনরিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জসীমউদ্দীন, মাইনরিটি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে হজযাত্রীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাদের নিরাপদ ও সফল যাত্রা কামনা করা হয়। এদিকে, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৭২ ঘণ্টায় ফের বড় সাফল্য আসাম পুলিশের!২৫ লক্ষ টাকার নেশার সিরাপ সহ গ্রেপ্তার ২!
নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ফের বড় সাফল্য পেল অসমের শ্রীভূমি জেলার চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের পুলিশ। নেশা জাতীয় কফ সিরাপ পাচারের একটি বড় চক্রের হদিশ মিলল পুলিশের তৎপরতায়। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ এসকাফ কফ সিরাপ, যার কালোবাজারি মূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার দুপুর আনুমানিক সোয়া একটা নাগাদ গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া AS25FC-6316 নম্বরের একটি ছয় চাকার কন্টেইনার গাড়ি ত্রিপুরা অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের নাকা চেকিং পয়েন্টে পৌঁছায়। সন্দেহের ভিত্তিতে গাড়িটিতে তল্লাশি চালায় কর্তব্যরত পুলিশ।তল্লাশির সময় দেখা যায়, ব্লু ডার্ট কুরিয়ারের অনলাইন সামগ্রীর আড়ালে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে দুটি বড় কাঠের বাক্স। বাক্স দুটি খুলতেই চমকে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। উদ্ধার হয় ১২টি কার্টুন ভর্তি মোট ৩৬০০ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ ‘এসকাফ’।পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির দুই চালককে আটক করে। ধৃতরা হল—মফিজুল ইসলাম (৩০), বাড়ি অসমের হাজো এলাকায় এবং সুন্তি আলী (৪০), বাড়ি নগাও জেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গুয়াহাটি থেকে এই কফ সিরাপ বোঝাই করে আগরতলার লিচু বাগান এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।তবে চালকদের অসংলগ্ন বক্তব্যে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই পাচার চক্রের সঙ্গে তারা পূর্ব থেকেই যুক্ত থাকতে পারে।ইতিমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে অসম পুলিশ। রবিবার ধৃতদের সিজেএম আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, এই পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে অসম পুলিশ।
আত্মসমালোচনা করে সংগঠন মজবুত করার প্রত্যয় মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আজ এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে এমনটাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। পাশাপাশি, তিনি দলের কর্মীদের সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।আজ সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির সকল কার্যকর্তাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনারা যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নিয়ে ঘরে ঘরে ‘পদ্ম’ প্রতীক পৌঁছে দিয়েছেন, তা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। একইসঙ্গে নির্বাচনে জয়ী সকল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিপরা মথার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের রায়কে বিনয়ের সঙ্গে মেনে নেওয়া হচ্ছে। এই ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি বলেন, উন্নয়ন, ঐক্য এবং মানুষের স্বার্থে আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। আমরা আরও শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব। সবশেষে, দলের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এডিসির পরাজয়ে হতাশ বিরোধী দলনেতার কন্ঠে বিজেপিকে নিয়ে আলোচনা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: এডিসি ভোটের পরাজয় মথা পেতে নিলেন বামেরা । সি পি এম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মিথ্যার বেসাতি দিয়ে ভোট বৈতরণী পার করতে না পারা জাতীয় দল তথা রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন । তিনি বলেন, বাম গণমুক্তি পরিষদের খাতা খোলতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক । নিজেদের পরাজয় থেকে বিজেপির পরাজয় নিয়েই রীতিমতো হতাশ বিরোধী দলনেতার । প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপি বামেদের সঙ্গে গোপন রফা করে এডিসি দখলের চেষ্টা করেছিল । তথাকথিত বাচন ভঙ্গিতে বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে মথা জয় পেলেও গিরিবাসীদের উন্নয়নে কতটা কাজ করবে সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রেক্ষিতে , বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে এডিসি প্রচারে বিজেপির প্রধান মুখ মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার ব্যর্থতা বলেও দাবি করলেন । তাঁর মতে, গত ৫ বছর পাহাড়ে কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি । এডিসির বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া সত্বেও মথার জয় প্রমাণিত বিজেপি সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি পাহাড় ভোটে । সরকারে থাকা দুই শরিক দলের পরস্পর বিরোধী লড়াই , হম্বিতম্বি ভাষন দিয়েই শেষ হয়েছেন। আঞ্চলিক বহু রাজনৈতিক দলের সরকার ভালো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে । এডিসি ক্ষমতায় মথা , সরকার চালাবে বিজেপি । পাহাড় ও সমতলে আলাদা আলাদা দলের সরকার দিয়ে কতটা বিকাশ হবে তাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। আগামীদিনে পাহাড়ে সংগঠনে মনোনিবেশ এবং শোচনীয় পরাজয় নিয়ে আত্মসমালোচনা করবে সি পি এম তাও উল্লেখ করলেন ।
গরীব ঘরের সাফল্যে শিখরে সোনাতলার পীযূষ, CBSE দশম শ্রেণিতে পেল ৯৭% নম্বর
নিজস্ব প্রতিনিধি: অভাব অনটনের সংসার অথচ সেই লড়াইকেই জয়ের হাতিয়ার করে নজির গড়ল খোয়াই সোনাতলা এলাকার কৃতি ছাত্র পীযূষ দাস। গতকাল রাতে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের সিবিএসই CBSE দশম শ্রেণির ফলাফল। আর সেই ফলাফলেই বাজিমাত করেছে খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্র পীযূষ। ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে সে খোয়াই মহকুমার মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করেছে।পীযূষের এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। বাবা বিপ্লব দাস পেশায় গৃহশিক্ষক। মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই সামান্য আয়েই চলে তিন জনের সংসার এবং পীযূষের পড়াশোনার খরচ। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এমনকি বাড়িতে পড়াশোনা করার মতো একটি ভালো টেবিল পর্যন্ত ছিল না পীযূষের।কিন্তু পিছুটান বা অভাব কোনোটিই তার জেদ কমাতে পারেনি। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। নিজের নিষ্ঠা আর অনলাইন কোচিং প্ল্যাটফর্ম PWPhysics Wallah)-র সহায়তায় সে এই অভাবনীয় ফল অর্জন করেছে। মাত্র দু’জন গৃহশিক্ষক ছিল।ইংরেজি ও বায়োলজি বিষয়ে গৃহ শিক্ষক ছিল।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিত দাস অবদান ছিল এই সাফল্যের পেছনে। শিক্ষিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছে পীযূষ। কষ্টে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন পীযুষের বাবা। পীযূষের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আপাতত একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে চায় সে।পীযূষের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পীযুষের পরিবারের কাকা, জেঠু ও সোনাতলা এলাকাবাসি অভাব যে মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল খোয়াইয়ের এই কৃতি সন্তান।

