নির্বাচনী সন্ত্রাস স্বরজমিনে খতিয়ে দেখিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ১৭-ই এপ্রিল রাজ্যে স্বশাসিত জেলা পরিষদ আদিবাসী উপজাতি ১০-তম সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। এডিসি ২৮-টি আসনের মধ্যে ২৪-টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেন তিফ্রামথা দল আর ৪-টি আসনে জয়লাভ করেন বিজেপি দল। আর ঐদিনের পর থেকেই রাজ্যের এডিসি ২৮-টি কেন্দ্রে তিফ্রামথা দলের কর্মীরা রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়ে শরীক দল তথা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল (রাজ্যের বর্তমান শাসক দল) এককথায় বিজেপি দলের মন্ডল কার্যালয় থেকে শুরু করে বহু একনিষ্ঠ কর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিক সংযোগ করেন। এখনও বিজেপি দলের বহু কার্যকর্তা এলাকা ছেড়ে অন্যত্ত্ব অবস্থান করছে। নির্বাচনের বিজেপি দলের দক্ষিণ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভারী তথা রাজ্যের মন্ত্রিসভার বর্তমান শাসকদলের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় আজ স্বরজমিনে নির্বাচনী সন্ত্রাস দেখতে আসলেন দক্ষিণ জেলাই। সাথে ছিলেন দক্ষিণ ও গোমতী জেলার জেলা পরিষদের সভাধিপতি, দক্ষিণ জেলার বিজেপি দলের জেলা সভাপতি, ৩৯ মনু ও ৪০ সাব্রুম এই দুই মন্ডলের মন্ডল সভাপতি, মনু- রাজনগরের বিজেপির দুই বিধায়ক, ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের এমডিসি কংঅজং মগ সহ আরো অন্যান্য নেতৃত্বরা। আজ দুপুরে প্রথমে ২৭ পূর্ব মুহুরীপুর-ভুরাতলী কেন্দ্রের অন্তর্গত ৩৯ মনু বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে কালী বাজার অগ্নি সংযোগ হওয়া বিজিবি কার্যালয় খতিয়ে দেখলেন। এরপর দ্বিতীয় ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের অন্তর্গত ৪০ সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে ৪৯ নাম্বার বুথে চাতকছড়ি হয়রাম পাড়ার হামক্রাই বাজারের অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় স্বরজমিনে খতিয়ে দেখলেন। পরিদর্শন শেষে যাওয়ার পথে ঐস্থানে মন্ত্রী সিংহ রায়কে বিজেপি দলের একনিষ্ঠ এক কার্যকর্তা জানান, নিজেদের মধ্যে নিজেরাই দূরত্ব নিয়ে বসে আছে। যার ফলশ্রুতি এটাই। এরপর তৃতীয় চালিতা বনকুল এলাকার দুইটি অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পঞ্চম মনু-বনকুল মহামনি বুদ্ধমন্দির সংলগ্ন টুরিস্ট প্লেজে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের চিত্র দেখে চলে যায় শিলাছড়ি অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় ও আক্রান্ত কার্যকর্তাদের দেখতে চলে যায় বলে জানা গিয়েছে। অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় তিনি সফর শেষে আরো জানান রাজ্যের মধ্যে সবচাইতে ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রে রাজনৈতিক সন্ত্রাস অধিক পরিমাণ হয়েছে বলে ক্যামেরার সামনে অভিযোগ করে জানান।
মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার তাণ্ডব!
নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার বিকেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় মহিলাটি। খবরে প্রকাশ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা রাস্তা দিয়ে হাতে লাঠি নিয়ে যাওয়ার সময় বাগমা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মারুতি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি শোরুমের সামনে শোরুমের ডিসপ্লে করে রাখা অটো গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয়। এছাড়ো আরো বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয় বিকৃত মস্তিষ্কের মহিলাটি। এইভাবে পরপর পাঁচটি গাড়ির গ্লাস ভেঙেছে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর দেওয়া হয় বাগমা পুলিশ ফাঁড়িতে। বাগমা ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যদিও মহিলাকে গাড়িতে তুলতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে মহিলা পুলিশকে। যদিও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী মহিলাদের হস্তক্ষেপে সেই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিন দুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা দ্বারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক দেখা দেয় পথ চলতি মানুষের মধ্যে।
হজের যাত্রীদের শুভেচ্ছা বিনিময় জসীম উদ্দীনের
নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রিপুরা থেকে হজযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ। সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় আগামীকাল কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন রাজ্যের হজযাত্রীরা। সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির ব্যবস্থাপনায় এ বছর মোট ৭৪ জন হজযাত্রী—এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ ও ১৯ জন মহিলা—আগামীকাল সকালে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখান থেকেই তারা পবিত্র হজযাত্রায় অংশ নেবেন।এই উপলক্ষে আজ আগরতলা হজ ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মাইনরিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জসীমউদ্দীন, মাইনরিটি ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে হজযাত্রীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাদের নিরাপদ ও সফল যাত্রা কামনা করা হয়। এদিকে, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৭২ ঘণ্টায় ফের বড় সাফল্য আসাম পুলিশের!২৫ লক্ষ টাকার নেশার সিরাপ সহ গ্রেপ্তার ২!
নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ফের বড় সাফল্য পেল অসমের শ্রীভূমি জেলার চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের পুলিশ। নেশা জাতীয় কফ সিরাপ পাচারের একটি বড় চক্রের হদিশ মিলল পুলিশের তৎপরতায়। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ এসকাফ কফ সিরাপ, যার কালোবাজারি মূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার দুপুর আনুমানিক সোয়া একটা নাগাদ গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া AS25FC-6316 নম্বরের একটি ছয় চাকার কন্টেইনার গাড়ি ত্রিপুরা অসম সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের নাকা চেকিং পয়েন্টে পৌঁছায়। সন্দেহের ভিত্তিতে গাড়িটিতে তল্লাশি চালায় কর্তব্যরত পুলিশ।তল্লাশির সময় দেখা যায়, ব্লু ডার্ট কুরিয়ারের অনলাইন সামগ্রীর আড়ালে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে দুটি বড় কাঠের বাক্স। বাক্স দুটি খুলতেই চমকে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। উদ্ধার হয় ১২টি কার্টুন ভর্তি মোট ৩৬০০ বোতল নেশা জাতীয় কফ সিরাপ ‘এসকাফ’।পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির দুই চালককে আটক করে। ধৃতরা হল—মফিজুল ইসলাম (৩০), বাড়ি অসমের হাজো এলাকায় এবং সুন্তি আলী (৪০), বাড়ি নগাও জেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গুয়াহাটি থেকে এই কফ সিরাপ বোঝাই করে আগরতলার লিচু বাগান এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।তবে চালকদের অসংলগ্ন বক্তব্যে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই পাচার চক্রের সঙ্গে তারা পূর্ব থেকেই যুক্ত থাকতে পারে।ইতিমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে অসম পুলিশ। রবিবার ধৃতদের সিজেএম আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, এই পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে অসম পুলিশ।
আত্মসমালোচনা করে সংগঠন মজবুত করার প্রত্যয় মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আজ এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে এমনটাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। পাশাপাশি, তিনি দলের কর্মীদের সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।আজ সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির সকল কার্যকর্তাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনারা যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নিয়ে ঘরে ঘরে ‘পদ্ম’ প্রতীক পৌঁছে দিয়েছেন, তা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। একইসঙ্গে নির্বাচনে জয়ী সকল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিপরা মথার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের রায়কে বিনয়ের সঙ্গে মেনে নেওয়া হচ্ছে। এই ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি বলেন, উন্নয়ন, ঐক্য এবং মানুষের স্বার্থে আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। আমরা আরও শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব। সবশেষে, দলের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এডিসির পরাজয়ে হতাশ বিরোধী দলনেতার কন্ঠে বিজেপিকে নিয়ে আলোচনা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: এডিসি ভোটের পরাজয় মথা পেতে নিলেন বামেরা । সি পি এম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মিথ্যার বেসাতি দিয়ে ভোট বৈতরণী পার করতে না পারা জাতীয় দল তথা রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন । তিনি বলেন, বাম গণমুক্তি পরিষদের খাতা খোলতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক । নিজেদের পরাজয় থেকে বিজেপির পরাজয় নিয়েই রীতিমতো হতাশ বিরোধী দলনেতার । প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপি বামেদের সঙ্গে গোপন রফা করে এডিসি দখলের চেষ্টা করেছিল । তথাকথিত বাচন ভঙ্গিতে বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে মথা জয় পেলেও গিরিবাসীদের উন্নয়নে কতটা কাজ করবে সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রেক্ষিতে , বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে এডিসি প্রচারে বিজেপির প্রধান মুখ মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার ব্যর্থতা বলেও দাবি করলেন । তাঁর মতে, গত ৫ বছর পাহাড়ে কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি । এডিসির বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া সত্বেও মথার জয় প্রমাণিত বিজেপি সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি পাহাড় ভোটে । সরকারে থাকা দুই শরিক দলের পরস্পর বিরোধী লড়াই , হম্বিতম্বি ভাষন দিয়েই শেষ হয়েছেন। আঞ্চলিক বহু রাজনৈতিক দলের সরকার ভালো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে । এডিসি ক্ষমতায় মথা , সরকার চালাবে বিজেপি । পাহাড় ও সমতলে আলাদা আলাদা দলের সরকার দিয়ে কতটা বিকাশ হবে তাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। আগামীদিনে পাহাড়ে সংগঠনে মনোনিবেশ এবং শোচনীয় পরাজয় নিয়ে আত্মসমালোচনা করবে সি পি এম তাও উল্লেখ করলেন ।
গরীব ঘরের সাফল্যে শিখরে সোনাতলার পীযূষ, CBSE দশম শ্রেণিতে পেল ৯৭% নম্বর
নিজস্ব প্রতিনিধি: অভাব অনটনের সংসার অথচ সেই লড়াইকেই জয়ের হাতিয়ার করে নজির গড়ল খোয়াই সোনাতলা এলাকার কৃতি ছাত্র পীযূষ দাস। গতকাল রাতে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের সিবিএসই CBSE দশম শ্রেণির ফলাফল। আর সেই ফলাফলেই বাজিমাত করেছে খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্র পীযূষ। ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে সে খোয়াই মহকুমার মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করেছে।পীযূষের এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। বাবা বিপ্লব দাস পেশায় গৃহশিক্ষক। মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই সামান্য আয়েই চলে তিন জনের সংসার এবং পীযূষের পড়াশোনার খরচ। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এমনকি বাড়িতে পড়াশোনা করার মতো একটি ভালো টেবিল পর্যন্ত ছিল না পীযূষের।কিন্তু পিছুটান বা অভাব কোনোটিই তার জেদ কমাতে পারেনি। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। নিজের নিষ্ঠা আর অনলাইন কোচিং প্ল্যাটফর্ম PWPhysics Wallah)-র সহায়তায় সে এই অভাবনীয় ফল অর্জন করেছে। মাত্র দু’জন গৃহশিক্ষক ছিল।ইংরেজি ও বায়োলজি বিষয়ে গৃহ শিক্ষক ছিল।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিত দাস অবদান ছিল এই সাফল্যের পেছনে। শিক্ষিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছে পীযূষ। কষ্টে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন পীযুষের বাবা। পীযূষের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আপাতত একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে চায় সে।পীযূষের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পীযুষের পরিবারের কাকা, জেঠু ও সোনাতলা এলাকাবাসি অভাব যে মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল খোয়াইয়ের এই কৃতি সন্তান।
এডিসি নির্বাচনের বিভিন্ন দিক গুলো পরিদর্শন করলেন দক্ষিন জেলার জেলাশাসক
নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার সকাল ৮ ঘটিকা থেকে অনুষ্ঠীত হতেযাচ্ছে এডিসি নির্বাচনের গননার কাজ। গনদেবতার রায় কারপক্ষে সেইদিকে নজর সমস্ত ত্রিপুরাবাসীর। আগামীকাল গননার কাজযাতেকরে সুষ্ঠভাবে সম্পূন্নহয় তারজন্য সমস্ত প্রকারের ব্যাবস্থা করেরেখেছে দক্ষিন জেলার জেলা প্রসাশন। নির্বাচনের গনানার কাজের বিভিন্নদিকগুলো পরিদর্শনে নামেন দক্ষিন জেলার জেলাশাসক মহম্মদ সাজাদ পি আই এ এস। বৃহস্পতিবার তিনি দক্ষিন জেলায় অবস্থিত সাব্রুম এবং শান্তির বাজার কাউন্টিংহল পরিদর্শনকরেন। পরিদর্শনশেষে সমগ্র দক্ষিন জেলার গননার বিভিন্নদিকগুলোনিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু তথ্য তুলে ধরেন।
ফের আক্রান্ত সাংবাদিক প্রভাত ঘোষ:সর্বত্র নিন্দার ঝড়
বক্সনগর প্রতিনিধি,১৫ এপ্রিল।। রাজ্যে বাম-রাম কোন আমলেই সাংবাদিক আক্রান্তের ঘটনা থেমে নেই।বাম আমলে রাজ্যের দুই প্রতিভাবান সাংবাদিক পরিকল্পিত খুন এবং দিকে দিকে সন্ত্রাসের ঘটনায় রাজ্যের সাংবাদিক মহল ভেবেছিল যে,সরকার পরিবর্তন হলে হয়তোবা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত হবে। কিন্তু ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়,সরকার স্বীকৃত সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিক জ্যাকেট বিতরণ সহ বিভিন্ন সংবাদ বান্ধব কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গেলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।তবে সরকার প্রধান বিভিন্ন সভায় জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করে সন্ত্রাস মাফিয়া দমন করার কথা বলেও কাজের কাজ এখনো কোনো কিছু হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক আক্রান্তের খবর সংবাদ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করা যায়।এরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এক মাসে দুইবার আক্রান্তের ঘটনা।কিছুদিন পূর্বে উত্তর কলমচৌড়া ছাতিয়ান টিলা চৌমুহনীতে মানিক দাস নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লাঠির আঘাতে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে গা ঢাকা দেয়।কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের চাপে পড়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় এবং এখনো মানিক দাস হাজতবাসে রয়েছেন।কিন্তু এই ঘটনার রেশ না কাটতেই বুধবার ফের আক্রান্তের শিকার হন বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রভাত ঘোষ।বুধবার ছিল কমলনগর বাজারের বৈশাখী মেলা।এই মেলার আমন্ত্রণে সাংবাদিক প্রভাত ঘোষ নিউজ সংগ্রহের জন্য মেলায় যান এবং রীতিমতো সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে আনন্দনগর চৌমুহনী সংলগ্ন একটি জায়গায় কিছু দুষ্কৃতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পনায় সাংবাদিক প্রভাত ঘোষকে আক্রমণ চালায়।তার বাইক ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। লাঠির আঘাতে তার মাথা চৌচির করে দেয়।সাংবাদিক প্রভাত ঘোষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা কমলনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কমলনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে জিবি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই আক্রান্তের ঘটনার খবর চাউর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের এবং বিভিন্ন সংবাদ সংগঠনের সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।বিশেষ করে আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার আক্রান্তের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে শীঘ্রই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ২ ঘটিকায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং আক্রান্তের ঘটনায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবিতে সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত বক্সনগর, সোনামুড়া, জম্পুইজলা ও বিশালগড় এবং জেলা প্রেস ক্লাব সহ ৫ টি প্রেস ক্লাবের কর্তব্যরত সাংবাদিকরা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। অভিযুক্তদের নাম ধাম দিয়ে পুলিশ সুপারকে সাংবাদিকরা জানান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।গ্রেফতার না হলে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাংবাদিকরা আন্দোলন সংঘটিত করবে। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী শীঘ্রই অভিযুক্তদের সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
তরমুজের আড়ালে দেড় কোটি টাকার নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার, অসম–ত্রিপুরা সীমান্তে পুলিশের বড় সাফল্য!
নিজস্ব প্রতিনিধি: চুরাইবাড়িতে ১৪ হাজারের বেশি বোতল ‘এস্কাফ’ উদ্ধার—গ্রেফতার চালক ও সহচালক।বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই বড়সড় সাফল্য পেল অসম পুলিশের শ্রীভূমি জেলা শাখা। অসম–ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে অভিযান চালিয়ে তরমুজ বোঝাই একটি লরি থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই নিষিদ্ধ কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে চুরাইবাড়ি চেকপোস্টে ৮ নম্বর আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চলাকালীন AS26AC-1102 নম্বরের একটি ছয় চাকার লরি সন্দেহজনকভাবে সেখানে পৌঁছায়। আগে থেকেই গোপন সূত্রে খবর থাকায় পুলিশ লরিটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লরিতে উপরে তরমুজ বোঝাই থাকলেও তার নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল ৯৫টি কার্টুন ভর্তি নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ‘এস্কাফ’। প্রতিটি কার্টুনে ১৫০টি করে বোতল থাকায় মোট উদ্ধার হয়েছে ১৪,২৫০ বোতল নেশাজাতীয় কফ সিরাপ।এই ঘটনায় লরির চালক নজরুল ইসলাম এবং সহচালক মুসলেম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের বাড়ি অসমের বরপেটা জেলায় এবং সহচালকের বাড়ি ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মেলাঘর এলাকায়।ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রীভূমি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা জানান,“রুটিন তল্লাশির সময়ই এই বড়সড় সাফল্য আসে। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এগুলি গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।” তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি লরির মালিককেও সমন পাঠানো হবে এবং কোথা থেকে এই মাদকদ্রব্য লোড করা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃতদের আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি জেলা আদালতে পেশ করা হবে। অসম পুলিশের এই সফল অভিযানে আবারও প্রমাণ মিলল যে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রুখতে তারা কতটা সক্রিয়। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনওভাবেই নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যের ভিতরে বা বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না।

