আত্মসমালোচনা করে সংগঠন মজবুত করার প্রত্যয় মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আজ এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে এমনটাই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। পাশাপাশি, তিনি দলের কর্মীদের সাহস, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।আজ সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির সকল কার্যকর্তাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনারা যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম নিয়ে ঘরে ঘরে ‘পদ্ম’ প্রতীক পৌঁছে দিয়েছেন, তা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়। একইসঙ্গে নির্বাচনে জয়ী সকল প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিপরা মথার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের রায়কে বিনয়ের সঙ্গে মেনে নেওয়া হচ্ছে। এই ফলাফলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি বলেন, উন্নয়ন, ঐক্য এবং মানুষের স্বার্থে আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। আমরা আরও শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব। সবশেষে, দলের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এডিসির পরাজয়ে হতাশ বিরোধী দলনেতার কন্ঠে বিজেপিকে নিয়ে আলোচনা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: এডিসি ভোটের পরাজয় মথা পেতে নিলেন বামেরা । সি পি এম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মিথ্যার বেসাতি দিয়ে ভোট বৈতরণী পার করতে না পারা জাতীয় দল তথা রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন । তিনি বলেন, বাম গণমুক্তি পরিষদের খাতা খোলতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক । নিজেদের পরাজয় থেকে বিজেপির পরাজয় নিয়েই রীতিমতো হতাশ বিরোধী দলনেতার । প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপি বামেদের সঙ্গে গোপন রফা করে এডিসি দখলের চেষ্টা করেছিল । তথাকথিত বাচন ভঙ্গিতে বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে মথা জয় পেলেও গিরিবাসীদের উন্নয়নে কতটা কাজ করবে সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রেক্ষিতে , বিজেপির ভরাডুবি নিয়ে এডিসি প্রচারে বিজেপির প্রধান মুখ মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার ব্যর্থতা বলেও দাবি করলেন । তাঁর মতে, গত ৫ বছর পাহাড়ে কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি । এডিসির বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া সত্বেও মথার জয় প্রমাণিত বিজেপি সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি পাহাড় ভোটে । সরকারে থাকা দুই শরিক দলের পরস্পর বিরোধী লড়াই , হম্বিতম্বি ভাষন দিয়েই শেষ হয়েছেন। আঞ্চলিক বহু রাজনৈতিক দলের সরকার ভালো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে । এডিসি ক্ষমতায় মথা , সরকার চালাবে বিজেপি । পাহাড় ও সমতলে আলাদা আলাদা দলের সরকার দিয়ে কতটা বিকাশ হবে তাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। আগামীদিনে পাহাড়ে সংগঠনে মনোনিবেশ এবং শোচনীয় পরাজয় নিয়ে আত্মসমালোচনা করবে সি পি এম তাও উল্লেখ করলেন ।
গরীব ঘরের সাফল্যে শিখরে সোনাতলার পীযূষ, CBSE দশম শ্রেণিতে পেল ৯৭% নম্বর
নিজস্ব প্রতিনিধি: অভাব অনটনের সংসার অথচ সেই লড়াইকেই জয়ের হাতিয়ার করে নজির গড়ল খোয়াই সোনাতলা এলাকার কৃতি ছাত্র পীযূষ দাস। গতকাল রাতে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের সিবিএসই CBSE দশম শ্রেণির ফলাফল। আর সেই ফলাফলেই বাজিমাত করেছে খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্র পীযূষ। ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে সে খোয়াই মহকুমার মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করেছে।পীযূষের এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। বাবা বিপ্লব দাস পেশায় গৃহশিক্ষক। মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সেই সামান্য আয়েই চলে তিন জনের সংসার এবং পীযূষের পড়াশোনার খরচ। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এমনকি বাড়িতে পড়াশোনা করার মতো একটি ভালো টেবিল পর্যন্ত ছিল না পীযূষের।কিন্তু পিছুটান বা অভাব কোনোটিই তার জেদ কমাতে পারেনি। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। নিজের নিষ্ঠা আর অনলাইন কোচিং প্ল্যাটফর্ম PWPhysics Wallah)-র সহায়তায় সে এই অভাবনীয় ফল অর্জন করেছে। মাত্র দু’জন গৃহশিক্ষক ছিল।ইংরেজি ও বায়োলজি বিষয়ে গৃহ শিক্ষক ছিল।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিত দাস অবদান ছিল এই সাফল্যের পেছনে। শিক্ষিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছে পীযূষ। কষ্টে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন পীযুষের বাবা। পীযূষের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আপাতত একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে চায় সে।পীযূষের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পীযুষের পরিবারের কাকা, জেঠু ও সোনাতলা এলাকাবাসি অভাব যে মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল খোয়াইয়ের এই কৃতি সন্তান।
এডিসি নির্বাচনের বিভিন্ন দিক গুলো পরিদর্শন করলেন দক্ষিন জেলার জেলাশাসক
নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার সকাল ৮ ঘটিকা থেকে অনুষ্ঠীত হতেযাচ্ছে এডিসি নির্বাচনের গননার কাজ। গনদেবতার রায় কারপক্ষে সেইদিকে নজর সমস্ত ত্রিপুরাবাসীর। আগামীকাল গননার কাজযাতেকরে সুষ্ঠভাবে সম্পূন্নহয় তারজন্য সমস্ত প্রকারের ব্যাবস্থা করেরেখেছে দক্ষিন জেলার জেলা প্রসাশন। নির্বাচনের গনানার কাজের বিভিন্নদিকগুলো পরিদর্শনে নামেন দক্ষিন জেলার জেলাশাসক মহম্মদ সাজাদ পি আই এ এস। বৃহস্পতিবার তিনি দক্ষিন জেলায় অবস্থিত সাব্রুম এবং শান্তির বাজার কাউন্টিংহল পরিদর্শনকরেন। পরিদর্শনশেষে সমগ্র দক্ষিন জেলার গননার বিভিন্নদিকগুলোনিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু তথ্য তুলে ধরেন।
ফের আক্রান্ত সাংবাদিক প্রভাত ঘোষ:সর্বত্র নিন্দার ঝড়
বক্সনগর প্রতিনিধি,১৫ এপ্রিল।। রাজ্যে বাম-রাম কোন আমলেই সাংবাদিক আক্রান্তের ঘটনা থেমে নেই।বাম আমলে রাজ্যের দুই প্রতিভাবান সাংবাদিক পরিকল্পিত খুন এবং দিকে দিকে সন্ত্রাসের ঘটনায় রাজ্যের সাংবাদিক মহল ভেবেছিল যে,সরকার পরিবর্তন হলে হয়তোবা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত হবে। কিন্তু ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়,সরকার স্বীকৃত সাংবাদিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিক জ্যাকেট বিতরণ সহ বিভিন্ন সংবাদ বান্ধব কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গেলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।তবে সরকার প্রধান বিভিন্ন সভায় জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করে সন্ত্রাস মাফিয়া দমন করার কথা বলেও কাজের কাজ এখনো কোনো কিছু হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক আক্রান্তের খবর সংবাদ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করা যায়।এরই এক জ্বলন্ত প্রমাণ বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এক মাসে দুইবার আক্রান্তের ঘটনা।কিছুদিন পূর্বে উত্তর কলমচৌড়া ছাতিয়ান টিলা চৌমুহনীতে মানিক দাস নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লাঠির আঘাতে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে গা ঢাকা দেয়।কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের চাপে পড়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় এবং এখনো মানিক দাস হাজতবাসে রয়েছেন।কিন্তু এই ঘটনার রেশ না কাটতেই বুধবার ফের আক্রান্তের শিকার হন বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রভাত ঘোষ।বুধবার ছিল কমলনগর বাজারের বৈশাখী মেলা।এই মেলার আমন্ত্রণে সাংবাদিক প্রভাত ঘোষ নিউজ সংগ্রহের জন্য মেলায় যান এবং রীতিমতো সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে আনন্দনগর চৌমুহনী সংলগ্ন একটি জায়গায় কিছু দুষ্কৃতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পনায় সাংবাদিক প্রভাত ঘোষকে আক্রমণ চালায়।তার বাইক ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। লাঠির আঘাতে তার মাথা চৌচির করে দেয়।সাংবাদিক প্রভাত ঘোষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা কমলনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কমলনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে জিবি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই আক্রান্তের ঘটনার খবর চাউর হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের এবং বিভিন্ন সংবাদ সংগঠনের সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।বিশেষ করে আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার আক্রান্তের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে শীঘ্রই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ২ ঘটিকায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং আক্রান্তের ঘটনায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবিতে সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত বক্সনগর, সোনামুড়া, জম্পুইজলা ও বিশালগড় এবং জেলা প্রেস ক্লাব সহ ৫ টি প্রেস ক্লাবের কর্তব্যরত সাংবাদিকরা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। অভিযুক্তদের নাম ধাম দিয়ে পুলিশ সুপারকে সাংবাদিকরা জানান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।গ্রেফতার না হলে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাংবাদিকরা আন্দোলন সংঘটিত করবে। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী শীঘ্রই অভিযুক্তদের সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
তরমুজের আড়ালে দেড় কোটি টাকার নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার, অসম–ত্রিপুরা সীমান্তে পুলিশের বড় সাফল্য!
নিজস্ব প্রতিনিধি: চুরাইবাড়িতে ১৪ হাজারের বেশি বোতল ‘এস্কাফ’ উদ্ধার—গ্রেফতার চালক ও সহচালক।বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনেই বড়সড় সাফল্য পেল অসম পুলিশের শ্রীভূমি জেলা শাখা। অসম–ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে অভিযান চালিয়ে তরমুজ বোঝাই একটি লরি থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই নিষিদ্ধ কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে চুরাইবাড়ি চেকপোস্টে ৮ নম্বর আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চলাকালীন AS26AC-1102 নম্বরের একটি ছয় চাকার লরি সন্দেহজনকভাবে সেখানে পৌঁছায়। আগে থেকেই গোপন সূত্রে খবর থাকায় পুলিশ লরিটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লরিতে উপরে তরমুজ বোঝাই থাকলেও তার নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল ৯৫টি কার্টুন ভর্তি নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ‘এস্কাফ’। প্রতিটি কার্টুনে ১৫০টি করে বোতল থাকায় মোট উদ্ধার হয়েছে ১৪,২৫০ বোতল নেশাজাতীয় কফ সিরাপ।এই ঘটনায় লরির চালক নজরুল ইসলাম এবং সহচালক মুসলেম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালকের বাড়ি অসমের বরপেটা জেলায় এবং সহচালকের বাড়ি ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মেলাঘর এলাকায়।ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রীভূমি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা জানান,“রুটিন তল্লাশির সময়ই এই বড়সড় সাফল্য আসে। উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এগুলি গুয়াহাটি থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল।” তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি লরির মালিককেও সমন পাঠানো হবে এবং কোথা থেকে এই মাদকদ্রব্য লোড করা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃতদের আগামী বৃহস্পতিবার শ্রীভূমি জেলা আদালতে পেশ করা হবে। অসম পুলিশের এই সফল অভিযানে আবারও প্রমাণ মিলল যে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রুখতে তারা কতটা সক্রিয়। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনওভাবেই নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যের ভিতরে বা বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না।
শুভ হউক বাংলা ১৪৩৩
সম্পাদকীয় কলম : বাংলায় একটা প্রবাদ রয়েছে ' আশায় নাকি বাঁচে চাষা ' । বর্তমান সমসাময়িক রাজ্যের প্রেক্ষাপটে জনগণেরও ঠিক একই অবস্থা । এক সময় রাজ্যের গন দেবতারা জনৈক রাজনৈতিক দলের ভীষন যন্ত্রের আপ্লুত হয়ে হয়ে অন্ধভাবে তাঁদের পাশে রায় দিয়েছিলেন জনগণ । ২০১৮ সালে রাজ্যের মধ্যে নতুন সূর্যোদয় হয়েছিল । বহু আশা ছিল অসমাপ্ত কাজের গতিশীলতা আসবে । সেই স্বপ্নে আজও যেন জনগন বেঘোরে । ইতিমধ্যেই দেখেছেন বহু উত্থান - পতন। তবে , আক্ষেপের মধ্যেই আরও একটি বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছেন । সকলের সার্বিক মঙ্গল কামনায় রত ।সব কিছু যেন শুভ হয় । বাংলা নতুন বছরে প্রত্যাশা রাখছেন রাজ্যবাসী । আক্ষরিক অর্থে সুসময় এসেছে একাংশ সুবিধাভোগীদের । আমাদের অনতি দূরের রাজ্যে অবিজেপি সরকার রয়েছে । বাংলা ভাষী এই রাজ্যের মধ্যে বেকারদের জন্য বেকার ভাতা, কন্যাশ্রী প্রকল্প,মহিলাদের জন্য চালু রয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার । তাতে করে কয়েক কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সুনিশ্চিত গ্যারান্টি হয়েছে । ছোট রাজ্য ত্রিপুরা । মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৪০-৪৫ লাখ। এই ছোট রাজ্যের মধ্যেই বেকার ভাতা , লক্ষ্মীর ভান্ডার মতো কোন ধরনের প্রকল্প রুপায়ন নিয়ে ডবল ইঞ্জিনের সরকার হিসাবে দাবী করা রাজনদের প্রয়াস কেউ এখন পর্যন্ত দেখতে পাননি । রাজ্যের মধ্যে শূন্যপদ পূরন হচ্ছেনা । বাড়ছে বেকার যুবকদের মধ্যে হতাশা । শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা । হাজারোও বেকার টেট উত্তীর্ণ হয়ে চাকরীর জন্য ধর্নারত । বিশ্ব মানের হাসপাতাল গড়ার ভাষন শুনা গেলেও বাস্তবে চিকিৎসা পরিকাঠামোর অপ্রতুলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে । কোন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা মনে হয় হাসপাতালের মেঝে রোগীদের ভিড়ে । নেশা মুক্ত প্রদেশ গড়ার বাস্তব চিত্রে দেখা যায় নেশা করবার চলছে রেল পথেও। এত কিছুর পরেও সবাইকে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বলতেই হবে শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।
উৎসবের আমেজে মেলাঘর বাজারে ইলিশের দাপট বনাম ক্রেতার পকেট
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মেলাঘরের মাছ ও মাংসের বাজারে আজ উপচে পড়া ভিড়। উৎসবের আমেজে ইলিশের জয়জয়কার থাকলেও, দাম নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোর থেকেই মেলাঘর বাজারের আকাশ-বাতাস মুখরিত বিক্রেতাদের হাঁকডাকে। পহেলা বৈশাখ মানেই পাতে এক টুকরো ইলিশ আর পছন্দের মাংস। তাই আজ সকাল থেকেই মাছ ও মাংসের দোকানে তিল ধারণের জায়গা নেই। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বাজারে রুপালি ইলিশের দাপট চোখে পড়ার মতো। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।দাম নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও বাঙালির উৎসবের জোয়ারে তা যেন কিছুটা ম্লান। পকেটে টান পড়লেও ঐতিহ্যের টানে খালি হাতে ফিরছেন না কেউ। সাধ্য আর সাধের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হচ্ছে বাঙালির উৎসব প্রিয়তারই।মেলাঘর বাজারের এই ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে, দামের ঊর্ধ্বগতি উৎসবের আনন্দকে দমাতে পারেনি। নতুন বছর সবার জন্য সুখের হোক
সোনামুড়া-বিলোনিয়া সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা!চালকের মৃত্যু!! গুরুতর আহত মা ও শিশু!
সোনামুড়া: সোনামুড়া টু বিলোনিয়া মূল সড়কের রবীন্দ্রনাথ মগ্গারপার এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক টমটম চালক। এই ঘটনায় একই পরিবারের মা ও শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।জানাগেছে, আজ সোনামুড়া-বিলোনিয়া সড়কে রবীন্দ্রনগর মগ্গারপার TR01C-4311 নম্বরের একটি ম্যাক্স গাড়ি এবং TR07A-3835 নম্বরের টমটমের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই টমটম চালকের মৃত্যু হয়। নিহতের নাম প্রদীপ দাস, পিতা- জয় কৃষ্ণ দাস। তাঁর বাড়ি সোনামুড়ার ঠাকুরমুরা এলাকায়।দুর্ঘটনার সময় টমটমে যাত্রী হিসেবে ছিলেন সোনামুড়া আরালিয়ার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার এবং তাঁর চার বছরের শিশু পুত্র মোহাম্মদ সামি। দুর্ঘটনায় তারা দুজনেই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় দুই যুবক, শাকিল ও মনির, দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরাই মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে মেলাঘর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলা জিবি হাসপাতালে রেফার করেন।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সোনামুড়া থানার পুলিশ মগ্গারপার এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটিকে উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়।
স্ত্রী এবং ছেলেকে খুন করে বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষকের! চাঞ্চল্য উদয়পুরে!
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাত সকালে রক্তে রাঙা এক বিভীষিকা ময় দৃশ্য স্তব্ধ উদয়পুর। চন্দ্রপুর বেলতলী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি সুখী পরিবার। অভিযোগ, বটতলী স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক অজিত দাস নিজের স্ত্রী রুপা দাস ও ছেলে দিগন্ত দাসকে নির্মমভাবে খুন করেন। স্থানীয়দের মতে, ভোরবেলায় হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে এলেও ততক্ষণে সব শেষ। পরিবারের সদস্য নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, অজিত গত কয়েকদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে গোমতী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, চিকিৎসা চলছে—অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাধা কিশোরপুর থানার পুলিশ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। শুরু হয়েছে তদন্ত—কী কারণে এমন নৃশংস পরিণতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক নিমিষেই নিঃশেষ হয়ে গেল এক পরিবার উদয়পুর জুড়ে এখন শোক, আতঙ্ক আর অবিশ্বাসের ছায়া।

